ঝিনাইদহের চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিএনপি ঝিনাইদহ ১, ২ ও ৪ আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রেখেছিল। এরপর গত বুধবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটি গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে এসব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করে। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন ঝিনাইদহ-১ আসনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ঝিনাইদহ-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদ (কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক) থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদানকারী রাশেদ খাঁন। আসনগুলোতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পরই শুরু হয়েছে পুরোদমে নির্বাচনি তৎপরতা। ধারণা পাওয়া গেছে, চারটি আসনের মধ্যে কোথাও বিএনপি প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন জামায়াত প্রার্থী এবং কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ন্ত কুমার কুণ্ডুর (বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী) হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন ভোটারের এ আসনটিতে অপর হেভিওয়েট প্রার্থী জামায়াতের উপজেলা আমির মাওলানা এ এস এম মতিউর রহমান। এ ছাড়া এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরে আলম বিশ্বাস, এনসিপির বাবুল বাশার ও এবি পার্টির মতিয়ার রহমান।
ঝিনাইদহ-২ (হরিণাকুণ্ডু-ঝিনাইদহ সদর) : আসনটিতে গত বুধবার বিএনপি থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী এখানে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবুবকর। ওয়াকিবহাল সূত্র মনে করছে, ভোটের লড়াইয়ে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী এম এ মজিদ নিশ্চিতভাবে এগিয়ে থাকবেন। কারণ আসনটিতে বিএনপির নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। এ ছাড়া এ আসনে অন্যদের মধ্যে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন স্বতন্ত্র হিসেবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ইব্রাহীম রহমান রুমী ওরফে বাবু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মোমতাজুল করীম, বাসদের আসাদুল ইসলাম এবং এনসিপির হামিদ পারভেজ।
ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে, মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী কেন্দ্রীয় শুরা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মাওলানা মতিয়ার রহমান। এখানে জামায়াতের নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হবে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে। আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা সরোয়ার হোসেন।
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) : ঝিনাইদহের সবচেয়ে আলোচিত এ আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী মো. রাশেদ খাঁন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। বিএনপি থেকে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় গত বুধবার থেকে উপজেলাব্যাপী বিক্ষোভ করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ধারণা পাওয়া গেছে, আসনটিতে মূলত বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের লড়াই হবে জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবু তালিবের। এ ছাড়াও আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাও. মুফতি আহমাদ আবদুল জলিল।