রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে গতকাল শুরু হয়েছে বিজু উৎসব। সবুজ কলাপাতায় গাঁদা, জবা, গোলাপ, মাধবীলতাসহ নানা ফুল হ্রদের পানিতে আদর মাখা হাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন রঙিন পিনোন হাদি পরা কিশোরী ও নারীরা। ফুল বিজু অর্থাৎ পুরোনো বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণ করা। চাকমা জাতিগোষ্ঠীর মতে, বাংলা বছরের শেষ দিন নদীর পানিতে ফুল ভাসিয়ে পূজা করলে পুরোনো বছরের দুঃখ, কষ্ট আর গ্লানি ভেসে যায়। আর ফুল প্রকৃতি ও ভালোবাসার প্রতীক, যা মানুষের মনকে বিমোহিত করে। নতুন বছর যাতে ফুলের মতো সুরভিত ও স্নিগ্ধ হয় তার জন্য প্রার্থনা করা হয়। গতকাল সকাল ৭টায় রাঙামাটি কেরানি পাহাড় এলাকায় কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসানোর উৎসব শুরু হয়। এ সময় হ্রদ পাড়ে নামে হাজারো নারী-পুরুষের ঢল। তারা ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে গানের আসর বসান তরুণরা। এ সময় কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি তোলেন আবার কেউ প্রিয় মানুষকে ফুল উপহার দেন। এমন আনন্দঘন পরিবেশের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পাহাড়ের আনাচেকানাচে। অন্যদিকে একইভাবে ফুল বিজুর উৎসব হয় রাঙামাটির রাজবন বিহারের ঘাটে। চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় এ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া রাঙামাটি শহরের গর্জন তুলী এলাকায়ও ফুল বিজুর উৎসব পালন করে ত্রিপুরা জাতিগোষ্ঠী। গড়িয়া নৃত্যের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী চলে তাদের বিজু উৎসব। এ ছাড়া তঞ্চঙ্গ্যাও কাপ্তাই হ্রদে ফুল ভাসিয়ে পালন করে ফুল বিজু। দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করেন এ জনগোষ্ঠী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্যাঞ্চলে চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু আর বম ও ম্রোদের চাংক্রান উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন হবে বৈশাখ। তবে জাতিগোষ্ঠীর ভিন্নতার কারণে নামের ভিন্নতা থাকলেও ফুল বিজু উৎসব একই। ফুল বিজু, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম ও ম্রোরাও একইভাবে পালন করে।
১৩ এপ্রিল পালিত হবে পাহাড়ে মূল বিজু। এ ছাড়া ১৪ এপ্রিল সারা দেশের সঙ্গে মিল রেখে রাঙামাটিতেও পালিত হবে বর্ষবরণ উৎসব। তবে বর্ষবরণ উৎসব শেষ হলেও পাহাড়ে কিন্তু উৎসব শেষ হচ্ছে না। ১৭ এপ্রিল শুরু হবে মারমা সম্প্রদায়ের জলকেলি উৎসব, যা সপ্তাহব্যাপী চলবে।