চুলের স্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই, আর সেই দুশ্চিন্তার কেন্দ্রে যদি কোনো খলনায়ক থাকে, তবে সেটি নিশ্চিতভাবেই ‘খুশকি’। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে কর্মব্যস্ত তরুণ-তরুণী- সাদা এই গুঁড়োর বিড়ম্বনায় পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। খুশকির সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা অনেকের কাছে প্রায় অসাধ্য মনে হলেও, সঠিক তথ্যের অভাব আর অযত্নই এর প্রধান কারণ। তবে সহজ কিছু নিয়ম আর ঘরোয়া টোটকায় কীভাবে খুশকিকে বশ করা যায়, তা নিয়ে থাকছে আজকের ফিচার।
খুশকি আসলে কী?
আমাদের ত্বকে যেমন প্রতিনিয়ত কোষের নবায়ন ঘটে, মাথার স্ক্যাল্পেও ঠিক তাই হয়। প্রতিদিন পুরোনো কোষ ঝরে যায় এবং সেখানে জায়গা করে নেয় নতুন কোষ। তবে সমস্যা বাধে তখন, যখন এই কোষ বদলের প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত ঘটে। পুরোনো কোষগুলো ঝরে যাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়ার আগেই নতুন কোষ তৈরি হওয়ায় সেগুলো জমে গিয়ে সাদা গুঁড়োয় রূপ নেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় মৃত এই নির্জীব সাদা কোষগুলোই হলো- ‘খুশকি’।
কেন হয় এই বিড়ম্বনা?
সুস্থ ও ঝলমলে চুলের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্চা। খুশকি হওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে বেশ কিছু কারণ-
♦ নিয়মিত চুল না আঁচড়ানো বা ব্রাশ না করার ফলে স্ক্যাল্পে রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। এতে মৃত কোষ জমার সুযোগ পায়।
♦ অতিরিক্ত শুষ্ক আবহাওয়া বা ঘনঘন তাপমাত্রার পরিবর্তন স্ক্যাল্পকে শুষ্ক করে খুশকি বাড়িয়ে দেয়।
♦ অতিরিক্ত শ্যাম্পু যেমন স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক তৈলাক্ততা কেড়ে নেয়, তেমনি কম শ্যাম্পু করলে জমে থাকা ময়লা ও তেল খুশকির কারণ।
♦ খাবারে ভিটামিন বি, জিঙ্ক এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব থাকলেও এ সমস্যা দেখা দেয়।
♦ তা ছাড়া বিভিন্ন চর্মরোগ বা স্কিন ডিজিজের কারণেও মাথায় খুশকির উপদ্রব দ্রুত বাড়তে পারে।
খুশকি মানেই কি কেবল চুলকানি?
অনেকেই মনে করেন খুশকি কেবল চুলের সৌন্দর্য নষ্ট করে। কিন্তু এর ক্ষতিকর দিক আরও গভীরে-
♦ খুশকির প্রধান উপসর্গ হলো স্ক্যাল্পে তীব্র চুলকানি।
♦ অনেক সময় স্ক্যাল্প লাল হয়ে যায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
♦ আর হ্যাঁ, সবচেয়ে বড় বিপত্তি হলো, খুশকি থেকে কপালে বা মুখে জেদি ব্রণ বা র্যাশ দেখা দিতে পারে।
ঘরোয়া সমাধানে খুশকির লাগাম
যদি আপনার খুশকির সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তবে প্রথমেই আপনার শ্যাম্পুটি বদলে দেখুন। তবে সমস্যা জেদি হলে শ্যাম্পুর পাশাপাশি প্রয়োজন বিশেষ ঘরোয়া পরিচর্যা।
১. মেথির ম্যাজিক :
এক বাটি পানিতে দুই চা চামচ মেথি সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে তা পেস্ট করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন।
২. লেবুর অ্যান্টি-সেপটিক ছোঁয়া
দুই টেবিল চামচ লেবুর রস সরাসরি চুলের গোড়ায় ঘষে লাগিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপর এক কাপ পানিতে এক টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন।
৩. অ্যালোভেরা জেলের শীতলতা
চুল ধোয়ার ১৫ মিনিট আগে ফ্রেশ অ্যালোভেরা জেল স্ক্যাল্পে মেখে নিন। এটি স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা ধরে রেখে খুশকি কমাতে সাহায্য করে।
৪. রসুন ও মধুর মেলবন্ধন
রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে। রসুন থেঁতলে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন, উপকার পাবেন।
৫. জলপাই তেলের যত্ন
অলিভ অয়েল বা জলপাই তেল প্রাকৃতিক ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার। নিয়মিত ব্যবহারে স্ক্যাল্পের রুক্ষতা দূর হয় এবং খুশকির কমে আসে।
শেষ কথা- খুশকি তাড়াতে ধৈর্যের কোনো বিকল্প নেই। সপ্তাহে অন্তত তিন-চার দিন নিয়ম মেনে শ্যাম্পু করা এবং পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। তবে ঘরোয়া উপায়েও যদি ফল না মেলে, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা দক্ষ কসমোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
লেখা : সাদিয়া সারা