Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৭
পর্যটক টানছে ‘মিনি কক্সবাজার’
জিন্নাতুন নূর, নবাবগঞ্জ থেকে ফিরে
পর্যটক টানছে ‘মিনি কক্সবাজার’

ঢাকার নবাবগঞ্জের অদূরেই দোহারের পদ্মাতীরবর্তী মৈনট ঘাট। ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে এটি এখন ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে বেশি পরিচিত।

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের মতোই মৈনট ঘাটের বালু-মাটির বিশাল পাড় প্রথম দেখায় যে কারও মনে হতে পারে বুঝি কক্সবাজারের বিশাল সৈকতের একটি অংশ। রাজধানীর কাছাকাছি নতুন এ পর্যটনস্থানটি এরই মধ্যে ভ্রমণপিয়াসীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় বলে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থী নিয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এখানে পিকনিক করতে আসছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার বিশাল ঢেউয়ে মৈনট ঘাটের পাড় এরই মধ্যে ভাঙতে শুরু করেছে। আর সাগরপাড়ের ঢেউয়ে পা ডুবিয়ে একজন পর্যটক যে আনন্দানুভূতি পান মৈনট ঘাটে আগত দর্শনার্থীরাও একই অনুভূতি পেতে পদ্মার ঢেউয়ে পা ডুবিয়ে রাখছেন। শেষ বিকালে সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ে মৈনট ঘাটের তীরে সে সময় অসাধারণ দৃশ্যপট দেখা যায়। আর এ সময়টিতে এ ঘাটে সবচেয়ে বেশি মানুষের ভিড় হয়। আগতরা সেলফি বা ক্যামেরায় ছবি তুলে সেই সুন্দর সময়টি বন্দী করে রাখেন। মৈনট ঘাটে যাত্রী পারাপার ও পর্যটকের জন্য নৌকা ছাড়াও অনেক স্পিডবোট আছে। দর্শনার্থী চাইলে ঘণ্টা হিসেবে বা দলবেঁধে স্পিডবোটে পদ্মায় ঘুরতে পারেন। আধা ঘণ্টার জন্য রিজার্ভ স্পিডবোটের ভাড়া ২ হাজার আর দলবেঁধে ১০-১২ জন মিলে গেলে জনপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা গুনতে হয়। মাঝিরা জানান, অনেকেই মৈনট ঘাট থেকে স্বল্পসময়ে স্পিডবোট করে ফরিদপুর, মাওয়া ও আশপাশের এলাকায় যান। এ ছাড়া স্থানীয় জেলেরা ঘাটের এক পাশে পদ্মার তাজা ইলিশ, বাঘাইড়, চিতল ইত্যাদি মাছ বিক্রি করেন। বর্তমানে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায়। জানতে চাইলে এক বিক্রেতা বলেন, ‘এখানে প্রতিদিন আমি ইলিশ বিক্রি করি। ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেইকা আসা মানুষ পদ্মার তাজা মাছ দেখলেই কিনতে চায়। ’ ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে বেশ কয়েকটি বাস ছেড়ে যায়। এ ছাড়া প্রাইভেট কারে গাবতলী-সদরঘাট হয়েও ঘাটে আসা যায়। বুধবার প্রাইভেট কারে করে আব্বাস-রত্না দম্পতি ও তাদের দুই ছেলে মৈনট ঘাটে বেড়াতে আসেন। এ দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে এসেছেন। তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে এ স্থানটি সম্পর্কে জানতে পারেন। এখানে বেড়িয়ে পরিবারটি বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। আগত পর্যটকদের জন্য এরই মধ্যে পদ্মাতীরবর্তী এলাকায় ছোট খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। এতে ভাত, হালকা নাস্তা পাওয়া যায়। এ ছাড়া মৈনট ঘাট থেকে সামান্য দূরেই স্থানীয় বাজারে বিখ্যাত রণজিতের মিষ্টির দোকান। বেড়াতে আসা অনেকেই এখানকার বিখ্যাত স্পঞ্জ মিষ্টি কিনে নিয়ে যান অথবা খেয়ে যান। নবাবগঞ্জ রুট দিয়ে মৈনট ঘাটে এলে পথে পড়বে দর্শনীয় আরও কিছু স্থান। এর মধ্যে আছে নবাবগঞ্জের জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, খেলারাম দাতার বাড়ি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow