শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২২:০৯
আপডেট : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২২:২১

বিশেষ নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে তৈরি হচ্ছে পিপিই

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

বিশেষ নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে তৈরি হচ্ছে পিপিই
প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন করা হলেও করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় চট্টগ্রামের পোশাক কারখানায় বিশেষ নিরাপত্তায় তৈরি হচ্ছে পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ওষুধালয় স্মার্ট গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইপিজেডের বিশেষায়িত পোশাক কারখানা স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডকে প্রথমে এক লাখ পিপিই তৈরির কার্যাদেশ দিয়েছে। পরে আরো ৫০ হাজার পিপিই তৈরির আদেশ দেওয়া হয়। এমন পিপিই বানাতেও অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এ প্রতিষ্ঠান।

রবিবার পর্যন্ত তৈরিকৃত প্রায় ১ লাখ পিপিই পৃথকভাবে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ৫০ হাজার পিপিই মঙ্গলবারের মধ্যেই পিপিই তৈরির কাজ সম্পন্ন করে পাঠাতে পারবেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব পিপিই চিকিৎসক, নার্সরা ব্যবহার করবেন এবং গত ২৪ মার্চ এ কার্যাদেশ পেয়েই সরকারের নিরাপত্তাবেষ্টনিতে কারখানার শ্রমিকরা কাজে নেমে পড়েন।

স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারের কার্যাদেশ পাওয়ার পর থেকেই দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পিপিই তৈরির নির্দেশনা দিয়েছি। সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে পিপিই তৈরির কাজ চলছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১ লাখ পিপিই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকটি নির্দেশে আরো ৫০ হাজার পিপিই তৈরির অর্ডার পেয়েছি। এতে মঙ্গলবার বা ২ দিনের মধ্যেই এসব পিপিই তৈরি করতে পারবো বলে আশা করছি।

স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের পরিচালক শফিকুল রহমান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানকেই সরকার পিপিই তৈরির জন্য পছন্দ করেছে। পিপিই তৈরির মধ্য দিয়ে আমরাও করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত। এ ধরনের কাজে অভিজ্ঞ আমরা। আমাদের তৈরি পিপিই আমেরিকায়ও রপ্তানি হয়। পিপিই তৈরির বিশেষায়িত মেশিন ও অভিজ্ঞ টেকনিয়ান দ্বারা এসব পিপিই তৈরি হয়। একটি বিশেষায়িত ফ্লোরে অভিজ্ঞ শ্রমিক ধারায় পিপিই তৈরির কাজ চলছে। আমেরিকার একটি বায়ার আমাদের পিপিই সংগ্রহে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বুকিং দেওয়া আছে। এ বুকিং বাতিল করে সরকারের আগ্রহ ও সংকটকালীন সময় বিবেচনায় নিয়ে পিপিই প্রস্তুত করা হচ্ছে।

স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) বিপ্লব কুমার মজুমদার বলেন, পিপিই তৈরির পাশাপাশি যেসব কাজের অর্ডারের প্রস্তাব পেয়েছি সেগুলো দ্রুত তৈরির কাজ চলছে। পিপিই তৈরির জন্য কারখানায় বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও কারখানার নিরাপত্তা দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত কাপড় থাকায় সরকারের অর্ডার পাওয়া মাত্র কাজ শুরু করতে পেরেছি। এলসি করে কিংবা বিমানে এ কাপড় আনতে গেলে অনেকদিন সময় লাগতো। এখন শিপমেন্ট বন্ধ থাকায় দ্রুত সময়ে কাজ করতে সুবিধা হয়েছে। একই কথা বললেন নিরাপত্তায় থাকা ফ্যাক্টরির কমপ্লায়েন্স ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সহসভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে দেশেও সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রামেও পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট ও কারখানা সূত্র জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ওষুধালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত পৃথকভাবে এক লাখ পিপিই তৈরির দুটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গত ২৪ মার্চ এ কার্যাদেশ পেয়েই কারখানার শ্রমিকরা কাজে নেমে পড়েন।

গত শনিবার আরো ৫০ হাজার পিপিই তৈরির অর্ডার পেয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে ১ লাখ পিপিই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার বাকিসব পিপিই তৈরির কাজ সম্পন্ন করবে। ইপিজেডের বিশেষায়িত পোশাক কারখানা স্মার্ট জ্যাকেট লিমিটেডের চতুর্থ তলার একটি ফ্লোরে পিপিই তৈরির কাজ করছে শ্রমিকরা। কাজের দেখভাল করছেন ফ্যাক্টরির বেশ কয়েকজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা।

করোনা মোকাবেলার পর্যাপ্ত সরঞ্জাম পরিহিত অবস্থায় শ্রমিকরা এসব পিপিই তৈরিতে কাজ করছে। ১৩টি লাইনের আলট্রাসনিক মেশিনে পিপিইগুলো তৈরি করা হচ্ছে। কোন রূপ সেলাই ছাড়াই তিনটি রঙের পিপিই তৈরি হচ্ছে। এ পিপিইগুলোতে কোনরূপ পানি ঢুকবে না, প্রবেশ করবে না বাতাসও। কারখানাটিতে এখন পিপিই তৈরিতেই ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য