মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগে ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট : বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এ অভিমত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনফ্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও ২৫ শতাংশের বেশি এলএনজি প্রতিদিন হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়। অথচ বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার প্রায় ৯০ শতাংশই এ পথ দিয়ে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ঝুঁকিতে ফেলেছে।’ তিনি জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়। দাম যদি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তবে বছরে ৪-৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে, যা শিল্পোৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করবে। জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদনসক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।