২০ বছরের অধিক সময়। চলছে সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ। এই সময়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজারের বেশি দরিদ্র নারী। আর এটা সম্ভব করেছে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও কুমিল্লার হোমনায় এমনই ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংস্থাটি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের জগন্নাথপুর আধুনিক অডিটোরিয়ামে ৮৩তম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে ৩৭১ জন উপকারভোগীর মাঝে ৭০ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়। বিভিন্ন গ্রামের দরিদ্র নারীদের হাতে ক্ষুদ্রঋণের টাকা তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ময়নাল হোসেন চৌধুরী ও বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম নাসিমুল হাই। বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাত থেকে ঋণের টাকা পেয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায় দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা অসহায় নারীরা। খোশকান্দি গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, ‘সুদ নাই, কোনো বেশি টাকা দিতে হয় না, এর থেকে আর সুবিধা কী হতে পারে? এইবার নিয়া তিনবার ঋণ পাইলাম। আগের দুইবারে আমার অনেক লাভ হইছে। কিছু পুঁজি জমা করছি। সেই টাকার সাথে এইবারের টাকা মিলাইয়া একটা গরু কিনব। এক বছর গরুডা পালতে পারলে অনেক টাকা লাভ হবে। আমার মতো অনেক মানুষ এই টাকায় উপকার পাইছে।’
আসাদনগর গ্রামের হালিমা বলেন, ‘স্বামীর চায়ের দোকানে টাকা খাটাইছি। প্রতিদিন দোকানে বেশ লাভ হয়। দোকানটাও আস্তে আস্তে বড় করতাছি। আমাদের এহন আর চলতে কোনো সমস্যা হয় না। বসুন্ধরা মালিকের লাইগ্যা অনেক দোয়া করি। আল্লায় হেরে অনেক বছর বাঁচাইয়া রাখুক।’ এম নাসিমুল হাই জানান, পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এমন সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হয় না। বসুন্ধরা গ্রুপ বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ময়নাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘২০ বছরের বেশি সময় ধরে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের এই সুদ ও সার্ভিস চার্জমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনটি উপজেলার ৩০ হাজার ৬০৬ জন নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের পরিবারকে সহায়তা করতে পারছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যানের স্বপ্ন একটি দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়া। আপনারা স্বাবলম্বী হতে পারলেই আমাদের লক্ষ্য পূরণ হবে।