বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চল, বিশেষ করে সাভার অঞ্চলের বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। শিল্পকারখানা থেকে নির্গত ক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫), কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং বিভিন্ন ভারী ধাতু বায়ুর গুণগত মানকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। গতকাল রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত ‘জলবায়ু-সহনশীল এবং পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
বিআইপির সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশবান্ধব এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন।
সেমিনারে ‘শিল্প বায়ুদূষণের লাইকেন-ভিত্তিক জৈব ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন পরিকল্পনাবিদ নাঈমা ইসলাম মিম। লাইকেন হলো একটি ছত্রাক (মাইকোবায়েন্ট) এবং একটি সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম জীবের (ফটোবায়েন্ট) একত্রে সহাবস্থান। নাঈমা ইসলাম জানান, লাইকেন বাতাস থেকে সীসা ও তামার মতো ভারী ধাতু শোষণ করতে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, শিল্পাঞ্চলে দুই মাস অবস্থানের পর লাইকেন নমুনায় ভারী ধাতুর ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বায়ুদূষণ শোষণে এর কার্যকারিতার প্রমাণ দেয়। একই সঙ্গে লাইকেন বায়ুমানের পরিবর্তন শনাক্তে কার্যকর জৈব নির্দেশক হিসেবেও কাজ করতে পারে।
তিনি শিল্পাঞ্চলে লাইকেন চাষ ও সংরক্ষণ, বায়ুমান পর্যবেক্ষণে লাইকেনভিত্তিক বায়োমনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতিনির্ভর সমাধান অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণা সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ ড. হাসীব মুহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, ২০১৬ সালে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ তহবিল গঠনের কথা বলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক- এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিযোজন খাতে তুলনামূলক বেশি ব্যয় হলেও প্রশমন কার্যক্রম পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না।
বিশেষ অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার বলেন, অনেক প্রকল্পে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা না হওয়ায় বাস্তবায়নে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের সক্রিয় সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।