শিরোনাম
প্রকাশ : ৪ জুন, ২০২০ ২১:৪০

চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা, গ্রেফতার ১

উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাদ্রাসার অফিস সহকারীর গলায় জুতার মালা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাদ্রাসার অফিস সহকারীর গলায় জুতার মালা

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে একটি মাদ্রাসার অফিস সহকারী ও স্থানীয় মসজিদের ইমামকে গলায় জুতার মালা পড়িয়ে সন্মানহানী করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। 

গত বুধবার বিকেলে ওই ইমামকে জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরানোর ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

বিষয়টি অমানবিক দাবি করে অভিযুক্তদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন সুশীল সমাজের নেতারা। এদিকে, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। 

অপরদিকে, ঘৃণিত এই কাজের জন্য অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দড়িরচর খাজুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ওই মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং স্থানীয় স্টিমারঘাট সিকদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম শহীদুল ইসলাম আলাউদ্দিনকে গত বুধবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নেন চেয়ারম্যান মোস্তফা রাড়ি। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ফিরোজ, স্থানীয় বজলু আকন, আবুল বয়াতী, মো. কামরুজ্জমান ও রিন্টু দেওয়ানসহ অন্যরা। 

পরে এক ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শালিসদাররা মাদ্রাসার অফিস সহকারী শহীদুল ইসলাম আলাউদ্দিনকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করে ২০ হাজার টাকা মাফ করে বাকি ৫০ হাজার টাকার জন্য চাপ দেন। শহীদুল ইসলাম জরিমানার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করে তার গলায় প্রকাশ্যে জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরানো হয়। পরে তাকে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরানোর দৃশ্য উপস্থিত শালিসদারদের মধ্য থেকেই কেউ একজন ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। রাতের মধ্যে ওই ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

হেনেস্তার শিকার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা তিনি আত্মসাৎ করেননি। একজন অভিভাবক না আসায় ওই ছাত্রীর নামের পাশে তিনি তার ফোন নম্বর দিয়েছিলেন। তিনি ওই টাকা উত্তোলন কিংবা আত্মসাৎ করেননি। অথচ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চেয়ারম্যান তাকে জুতা দিয়ে পিটিয়ে গলায় জুতার মালা পড়িয়েছে। তিনি এই ঘটনার বিচার দাবি করেন। 

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের কঠোর বিচার দাবি করেছেন বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ্ সাজেদা। তিনি বলেন, ওই অফিস সহকরী কোনো অন্যায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া যেত। কিন্তু আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আইন হাতে তুলে নিয়ে তাকে অপমান করার কোনো এখতিয়ার রাখেন না। আইন বর্হির্ভুত কাজ করায় ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। 

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন ইমামকে হেনেস্তা করার বিষয়টি নজরে আসার পর ইতিমধ্যে বজলু আকন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। 

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. নাঈমুল হক জানান, হেনেস্তার শিকার শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোস্তফা রাড়িসহ শালিসে উপস্থিত ৯ জনের নামোল্লেখ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

বরিশালের জেলা প্রশাসক বলেছেন, একজনের গলায় জুতার মালা পড়ানো গর্হিত কাজ। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় ফৌজদারী মামলার পাশাপাশি অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা রাড়িকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে আইনগত এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন জেলা প্রশাসক। 

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর