শিরোনাম
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:২২
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৩২

কালিয়াকৈরে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের মানবিক সহায়তা

কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

কালিয়াকৈরে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের মানবিক সহায়তা

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা অফিস বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। মহামারি করোনা ও সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা দুটোই যখন একত্রে আঘাত হেনে বহু এলাকার মানুষের জীবনযাপন তছনছ করে দিয়েছে। ঠিক তখনই প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার কালিয়াকৈর দুর্গত প্রাইমারি স্কুল পড়ুয়া শিশুদের পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিতে পাশে দাঁড়িয়েছে। 

এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা কালিয়াকৈর-এর ব্যবস্থাপনায় এ বছর বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। করোনাকালীন স্কুলগুলো ছুটির মধ্যেও থেমে নেই উন্নয়ন কার্যক্রম। 

৪৫টি স্কুলে ক্লাস্টারভিত্তিক আলাদা করে ইউপেপ’র আওতায় নতুন আঙ্গিকে আকর্ষণীয় পতাকা বেদি, নান্দনিক স্থায়ী সাংস্কৃতিক মঞ্চ, শিশুবান্ধব স্মার্ট টেবিল, মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট, হ্যান্ডওয়াশ শেড নির্মাণ, টয়লেট মেরামত ও শিশুদের বসার বেঞ্চ তৈরি, মেরামত ও ক্রয় করা, আকর্ষণীয়ভাবে শিশুশ্রেণি সজ্জিতকরণ, ভবনের বারান্দার নিরাপত্তা গ্রিল ও কেচিগেট তৈরি ও সংযোজন বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত আগস্ট মাস হতে চলা এ কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি আলু, ১ কেজি পিয়াজ, ১টি সাবান ও ১টি শিশু মাস্ক। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদুল ইসলাম, আলমগীর হোসাইন, ফারহানা বেগম ও দিলারা রহমান এবং ১২২ জন প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষকের নিজস্ব বেতনের টাকা হতে অনুদান সংগ্রহ করে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যা ইতিমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। 

ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী হাফিজুল আমিনও এ কাজে একাত্মতা প্রকাশ করে ২০০ পরিবারের ত্রাণসামগ্রী সংযোজন করাসহ বিভিন্ন স্পটে তাদের সাথে যোগ দিয়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান করেন। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গাজীপুর মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন বিভিন্ন সময়ে এ কাজে তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ ৩৯ সদস্যের ত্রাণ কমিটি গঠন করে পানিতে নিমজ্জিত থাকা দুর্গত এলাকায় নৌকা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে, উঁচু ব্রিজ-কালভার্ট-পাকা রাস্তা অথবা রেল লাইনে দাড়িয়ে ত্রাণ সামগ্রীগুলো পৌঁছে দেওয়া হয় এবং একইসাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভিভাবকদের সাথে শিশুর পড়ালেখা চলমান রাখার বিষয়ে কার্যকর সাইকো স্যোসাল কাউন্সিলিং করা হয়। 

সাইকোলজিক্যাল স্যোসাল কাউন্সিলিং-এর ফলে বিভিন্ন দুর্যোগজনিত কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ও আশাবাদী থাকতে সহায়তা করে। মানবিক সহায়তা কাজের অংশ হিসেবে উপজেলার সাভাজপুর, দেওয়াইর বাজার, টেকিবাড়ী চানপুর এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুর অভিভাবকের নিকট শিশু খাদ্য বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী হাফিজুল আমিন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহমেদ রেজা আল মামুন, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম, জাহিদুল ইসলাম, আলমগীর হোসাইনসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকবৃন্দ। কালিয়াকৈর উপজেলার প্রায় ১৫০টি প্রাথমিক শিক্ষার্থী পরিবারের মাঝে এ শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়। 

শিশু খাদ্য সহায়তা পেয়ে গোসাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জনি জানায়, আমাদের বড় স্যার-ম্যাডামরা এতদিন আমাদের লেখাপড়া করাতেন, এখন দেখি উনারা আমাদের খাবার দিয়েও সাহায্য করেন। আমার খুব ভালো লাগছে। আমি এখন আরও লেখা পড়া করব। 

সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর হোসেন জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃতে শিক্ষা অফিসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ১২২ স্কুলের শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধভাবে কালিয়াকৈরের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। করোনাকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে দিনে ও রাতে সমান গতিতে চলছে শিশুর লেখাপড়া নিয়ে ভার্চুয়াল পাঠদান কার্যক্রম। কালিয়াকৈর উপজেলাকে প্রাথমিক শিক্ষায় দেশের নম্বর ওয়ান অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম জানান, আমার একটি চমৎকার টিম বন্ডিং আছে। টিম কালিয়াকৈর যেকোনো ভালো কাজে আহ্বান করলে তারা দ্রুত সাড়া দেয়। ফলে আমি এত বড় একটি কাজ হাতে নেওয়ার সাহস পেয়েছি। তাছাড়া বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমার সহকর্মীদের আগ্রহ দেখে আমি উজ্জীবিত হয়েছি। 

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর