শিরোনাম
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:২৮

লালমনিরহাটে ধসে গেছে বাঁধ, গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাটে ধসে গেছে বাঁধ, গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সলেডি স্পার-২ এর ১৫০ ফুট ধসে গেছে। তবে বাঁধটি রক্ষার জন্য বালুর বস্তা ফেলে প্রাণপণ লড়াই করে যাচ্ছেন স্থানীয় মানুষসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন। 

মঙ্গলবার ভোর রাতে হঠাৎ করেই ধসে পড়তে শুরু করে বাঁধটি। মুহূর্তেই বাঁধটির ১৫০ ফুটের মতো অংশ ধসে যায় তিস্তা নদীতে। তবে বাঁধটি ধসে গেলে সেখানে অবস্থিত গ্রামগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তিস্তা নদীতে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ করেই বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি রক্ষার্থে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ধসে যাওয়া স্থানটিতে ফেলছে।

বাঁধটি রক্ষায় ব্যর্থ হলে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বসতভিটা তিস্তা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদী পাড়ে মানুষগুলো। এ দিকে বাঁধটি রক্ষায় সহায়তা করতে এবং বিলীন হলে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ঘটনাস্থলে প্রস্তুত করা হয়েছে আদিতমারী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল। 

বাঁধ এলাকায় বসবাসরত আমিনুর রহমান (৫০) বলেন, ‘আইত (রাত) থাকি বালার (বালুর) বস্তা ফেলবার নাগছি (লাগছি)। বান্দ (বাঁধ) না টিকলে হামারা পথে বসি যামো।’ 

একই এলাকার হামিজ মিয়া (৬০) বলেন, ‘বাবা হামারগুলার জন্যে একনা দোয়া করেন। আল্লায় যেন হামাক রক্ষা করে। নইলে হামরা শ্যাষ হয়া যামো।’ 

স্থানীয় মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মতিয়ার রহমান মতি বলেন, রাতে হঠাৎ করে বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। মসজিদের মাইকিং করে ডাকা হলে গ্রামবাসী নিজের বাড়ির সংগৃহীত বস্তা নিয়ে বালু ভর্তি করে ভাঙা যায়গায় ফেলতে শুরু করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও গ্রামবাসীর সহায়তায় বাঁধটি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, যেকোনো উপায়েই হোক না কেন বাঁধটি রক্ষা করতে হবে। নইলে এই ইউনিয়নের বিস্তৃর্ন এলাকা তিস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা স্থানীয় লোকজনকে সাথে নিয়ে ধসে পড়া বাঁধের অংশ মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে বাঁধটি রক্ষা করতে হবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর