শিরোনাম
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৩৫

পটুয়াখালীতে রেকর্ড বৃষ্টি, নিখোঁজ ৫ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীতে রেকর্ড বৃষ্টি, নিখোঁজ ৫ যাত্রীর সন্ধান মেলেনি

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় গত দু'দিন অবিরাম ভারী বৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। এদিকে অবিরাম বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর উপকূল জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে শুক্রবার দুপুরের পর বৃষ্টি থেমে গেলে এবং পানির টান পড়লে মানুষের মাঝে ফিরে আসে কর্মচাঞ্চল্য।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আগুনমূখা নদীতে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় ১২ জনকে উদ্ধার করা হলেও সর্বশেষ পাওয়া খবরে ২৫ ঘণ্টা পরও ৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।

নিম্নচাপের প্রভাবে মাছধরারত ট্রলার সাগর থেকে নিরাপদে রয়েছে। জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে শহরসহ নিম্নাঞ্চল, মাছের ঘের ও ফসলি জমি। সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষেরা।

খেপুপাড়া রাডার স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৬ টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ২৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা।

অন্যদিকে দুর্যোগ আবহাওয়ার কারণে জেলার মূলভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাঁবালীর কোড়ালিয়া-পানপট্টি নৌ-রুটে আগুনমূখা নদীতে যাত্রীবাহী স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় ১৭ যাত্রীর মধ্যে ১২ জন উদ্ধার হলেও ৫ যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুলিশ ও কোস্টগার্ড স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালালেও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান মেলেনি বলে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে দুপুর পর্যন্ত উদ্ধার কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হলেও এখনও উদ্ধার কাজ চলছে।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. মহিব্বুল্লাহ ও কৃষি ব্যাংক বাহেরচর শাখার পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আশা ব্যাংকের বাহেরচর খালগোড়া শাখার কর্মকর্তা কবির হোসেন, দিনমজুর মো. ইমরান ও মো. হাসান মিয়া।

পটুয়াখালীর নদী বন্দর কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্পিডবোট চালানোর দায়ে স্পিডবোট মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের জন্য গতকাল রাতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ চালাই। এছাড়াও পুলিশ ও কোস্টগার্ড রাতে কাজ করে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এসেছে শুনেছি। পোর্ট অফিসার আমাকে জানিয়েছেন, তারা বেলা ১১টায় এসে পানপট্টিতে আছে। ঘটনাস্থলে আসেনি এবং আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। 

উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশাল নদী তাই জোয়ারের পর ভাটির টানে যদি বডিগুলো সাগরে নেমে গিয়ে থাকে তাহলে সহজেই পাওয়া খুব মুশকিল। অথবা জোয়ারের চাপে দূরে কোথাও চলে যায় তাহলেও পাওয়া খুব কষ্টসাধ্য। সর্বোপরি আমরা চেষ্টা করছি। 

তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্পিডবোট চালানো কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সন্ধ্যা ৭টায় জানান, উদ্ধার কাজ চলছে। আমাকে যেটা জানিয়েছে-ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। তারা চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর