শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ মে, ২০২১ ১৪:৪৮
প্রিন্ট করুন printer

শিম চাষে লাগবেনা মাচা: খাটো শিমের জাত উদ্ভাবন

গাজীপুর প্রতিনিধি

শিম চাষে লাগবেনা মাচা: খাটো শিমের জাত উদ্ভাবন
Google News

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিষ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম বিইউ খাটো শিম ৮ ও বিইউ খাটো শিম ৯ নামে শিমের দুইটি খাটো শিমের জাত সম্প্রতি উদ্ভাবন করেছেন। নতুন উদ্ভাবিত বিইউ খাটো শিম ৮ ও বিইউ খাটো শিম ৯ জাত দুইটি খাটো হওয়ায় কোন প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচা বিহীনভাবে মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে। দেশে এ শিম চাষে যুগান্তকারী গতিশীলতা আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া জাত দু'টি ছাদ বাগানে টবে চাষ করার উপযোগী। 

শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। দেশি শিম বাংলাদেশের ঘরে ঘরে অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এমনকি শহরের বাড়ির ছাদকৃষিতে শিম ফসলটির আবাদ হয়ে থাকে। বর্তমানে সারা বছরই শিম বাজারে পাওয়া যায়। তবে স্বাদ ও গন্ধে শীতকালীন শিমের তুলনা ভার। এটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু এবং সব শ্রেণির লোকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। শিম সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। শিমের বীজে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ছাড়াও খনিজ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন এ, বি ও সি থাকে। 
আমাদের দেহের পুষ্টিসাধনে এসব উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে শিম খাদ্য হিসেবে খুবই উপকারী। প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের জোগান ছাড়াও শিম অন্যতম লাভজনক ও অর্থকরী সবজি। এর চাষ করে জমি থেকে অনেক ফসলের তুলনায় হেক্টর প্রতি অধিক আয় করা যায়। শিমের প্রায় অর্ধশতাধিক জাত বাজারে আছে। তবে স্বাদ, গুনগতমান ও জনপ্রিয়তার নিরিখে বিচার করলে সীমিত সংখ্যক জাতই কৃষকের মাঠে এবং বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। শিমের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও পুষ্টিমানের বিবেচনায় বর্তমানে দেশে ব্যাপকভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে শিম চাষ বিস্তৃতি লাভ করেছে। তবে উদ্ভাবিত জাতসমুহের মধ্যে প্রায় সকল জাতের গাছই লম্বা। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিষ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ও পরিচালক (গবেষণা) প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম সম্প্রতি বিইউ খাটো শিম ৮ ও বিইউ খাটো শিম ৯ নামে শিমের দুইটি খাট জাত উদ্ভাবন করেছেন। খাটো জাতের শিম সাধারনত- জংলি প্রকৃতির হওয়ায় এবং শিমে গন্ধ থাকায় এগুলো খাবার অনুপযোগী হয়। প্রফেসর আমিনুল ইসলাম খাট জাতের মধ্যে দেশী শিমের গুণাগুন আনার জন্য ৮ বছর গবেষণা করে সফল হয়েছের। তিনি একটি খাটো জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতগুলো উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান।

এছাড়াও প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম ইতিপূর্বে দেশি শিমের বিভিন্ন গুনগত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ছয়টি জাত উদ্ভাবন করেছেন। তার উদ্ভাবিত জাতগুলি আকার-আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য, ফলন, শিমের রং, গড়ন, স্বাদ ও পুষ্টিগত গুনাগুন বিবেচনায় অনন্য। শিমের গতানুগতিক জাত সমূহ থেকে তার উদ্ভাবিত জাতগুলোকে সহজেই আলাদা করা যায়। এদের মধ্যে বিইউ শিম ৪ এর শিমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভোনয়েড বেশি থাকায় এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারবে। বিইউ শিম ৫ গাছের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত ফল ধরায় এটি ছাদ কৃষিতে টবে চাষ করার জন্য বিশেষ উপযোগী। জাতগুলোর অঙ্গজ বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হওয়ার দরূন জমির এরিয়া প্রতি ফলন অনেক বেশী হওয়ায় বানিজ্যিক চাষের জন্য খুবই উপযোগী। 

সম্প্রতি প্রফেসর আমিনুল ইসলাম কর্তৃক উদ্ভাবিত বিইউ খাটো শিম ৮ ও বিইউ খাটো শিম ৯ জাত দুইটি কোন প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচা বিহীনভাবে মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে যা দেশে শিম চাষে এক যুগান্তকারী গতিশীলতা আনয়ন করবে বলে আশা করা যায়। এ ছাড়া জাত দু'টি ছাদ বাগানে টবে চাষ করার উপযোগী। 

প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম নতুন উদ্ভাবিত শিমের জাতগুলির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানান, বিইউ খাটো শিম ৮, একটি বিদেশী খাটো জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। 

তিনি আরও বোলেণ, গাছের উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪৫ সে:মি:, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, নলডগ টাইপের, মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ১৮ থেকে ২০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ১৪ থেকে ১৬.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ থেকে ২.০ সেমি, শিমে ৬ থেকে ৮ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ থেকে ৮০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০ থেকে ১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ১২০০ থেকে ১৫০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী। 

তিনি জানান, বিইউ খাটো শিম ৯-একটি বিদেশী খাটো জাতের সাথে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোকসংবেদনশীল ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগষ্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ সে:মি:, শুটির রং সবুজ, শিরা গুলো বেগুনী রংয়ের, শুটি মাংশল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ৯ থেকে ১০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ৯ সে:মি:, প্রস্থ ১.৫ থেকে ২.০ সে:মি:, শিমে ৫ থেকে ৬ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ থেকে ১০০ টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০ থেকে ১৩০ দিন। গাছ প্রতি ফলন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো: গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত শিমের এই জাতগুলো খাটো হওয়ায় মাচা বা খুঁটি ছাড়াই মাঠ ফসলের মত চাষ করা যাবে বিধায় উৎপাদন খরচ কম হবে। কৃষকরা জাতগুলো চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। শিমের জাতগুলো খাটো হওয়ায় টবেও চাষ উপযোগী ফলে নগর বা ছাদ কৃষিতেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত

এই বিভাগের আরও খবর