শিরোনাম
প্রকাশ : ২৬ মে, ২০২১ ২০:৩৫
প্রিন্ট করুন printer

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস

পটুয়াখালীর উপকূল দফায় দফায় প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর উপকূল দফায় দফায় প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
Google News

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীর পানি বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পটুয়াখালীর পুরো উপকূল দফায় দফায় প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে পৌরশহর থেকে গ্রামের মাইলের পর মাইল।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেড়িবাঁধ, স্লুইজ গেইট, কাঁচা রাস্তা। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, ফসলি জমি, গাছপালা, কাঁচা ঘরবাড়ি, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, গবাদিপশু, হাস-মুরগি। গ্যাংওয়ে তলিয়ে মূল সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে ও ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে তিন দফা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বেশির ভাগ গ্রাম। পানিবন্দী এসব এলাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, দশমিনা, বাউফল ও গলাচিপা উপজেলা। তলিয়ে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্ল্যাহ জানান, পানিতে তলিয়ে গেছে ৫৯০টি মাছের ঘের, ২ হাজার ৬৩২টি পুকুর। আর এসব ঘের ও পুকুর তলিয়ে মাছ ভেসে যাওয়ায় ৪৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী জানান, বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানির এত চাপ ছিল, যার ফলে পটুয়াখালী ও কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে ৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ১০টি স্লুইজ গেইট আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান জানান, তিনি উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেছেন। এই এলাকায় এরকম পানি আর কখনও হয়নি বলে স্থানীয় লোকজন তাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকের চেয়ে ৭ থেকে ৮ ফুট পানি হয়েছে। এ উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ। বেড়িবাঁধ, পুকুর ও ঘেরের মাছসহ রাস্তাঘাট, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা রনজিৎ দেবনাথ জানান, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করতে এখনও সময় লাগবে। তবে পানিতে তলিয়ে প্রাথমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে রয়েছে কলাপাড়া উপজেলার ৭৬টি গ্রাম, রাঙ্গাবালী ৩৮টি, বাউফল ২০টি ও দশমিনা ১২টি। সব মিলিয়ে জেলায় অন্তত দুইশত গ্রাম তলিয়ে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচা রাস্তা, গাছ পালা, ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, পুকুর, গবাদিপশু, বেড়িবাঁধ অন্যান্য। তালিকা পেতে এখনও সময় লাগবে।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর