১ ডিসেম্বর, ২০২১ ২১:৪৭

দিনাজপুরে মাঠে মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরে মাঠে মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষক

ধানের জেলা দিনাজপুরে ধান কাটা-মাড়াই ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। জলবায়ু অনুকূল থাকায় আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তাছাড়া ধান ক্ষেতে এবার রোগবালাই কম। এবারও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। ন্যায্য দাম পেলে কৃষকরা লাভবান হবে। আগাম জাতের ধান বাজারে বেশি দামে বিক্রি হলেও কিছুটা এখন দাম কমেছে ধানের। 

ব্রি ধান-৩৪ (বাদশা ভোগ), কাঠারিভোগ, ব্রি ধান- ৫১, ৫২, ৫৭ ও ৮০ জাতের ধান ও স্বর্ণা এবং নেপালি স্বর্ণাসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমন ধান চাষ হয়েছে। সবজাতের ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। 

দিনাজপুর জেলায় চলতি আমন মৌসুমে ২ লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ভালো ফলন হওয়ায় এবার জেলায় চালের উৎপাদন ৭ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

এবার দিনাজপুরের খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুরসহ কয়েক উপজেলায় আমন ধানে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা দেয় পাতা মোড়ানো মাজরা ও পচানি রোগ। এতে ধানের ফলন নিয়ে চিন্তিত হলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে কৃষক বলছে কৃষি বিভাগ।  

রানীবন্দর হাটের কয়েকজন বিক্রেতা জানায়, নভেম্বর মাসের শুরু থেকে বাজারে উঠছে নতুন আমন ধান। দিন দিন সরবরাহও বাড়ছে। প্রথম দিকে প্রতিবস্তা গুটি স্বর্ণা ধান বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৩০ টাকায় এখন তা নেমে এসেছে ১৮৫০ থেকে ১৯৫০টাকায়। কটরাপারী ২০১০ টাকা থেকে নেমে ১৯২০ টাকায়, বিনা-৭ জাতের ধান ২২০০ থেকে নেমে ২০৫০ টাকায় এবং প্রতি বস্তা সুমন স্বর্ণ জাতের ধান ২০৭০ থেকে নেমে ২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিআর-৫১ জাতের ধানের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনাজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ শিবপুর গ্রামের কৃষক বিকাশ রায় বলেন, এবার ৩ একর জমিতে সুগন্ধি ধান আবাদ করেছি। ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। তবে সার, কীটনাশকের দাম এবং ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি। এখন দামটা ভালো পেলেই হয়। 

সদরের সুন্দরবন ইউপির তরঙ্গীনি গ্রামের আদর্শ কৃষক আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ধান চাষে খরচ হয়েছে বেশি। পোকার হাত রক্ষায় ক্ষেতে অধিক পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়েছে। এতে ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ পড়েছে বেশি। তাই ধানের ভালো দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে তাদের। 

বিডি প্রতিদিন/এএম

সর্বশেষ খবর