কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট ব্রিজে ১০ টনের বেশি মালবোঝাই যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে অনেকে আগেই। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, প্রতিদিনই ভারী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্রিজটির ওপর দিয়ে চলাচল করছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দুধকুমার নদের ওপর পাইকেরছড়া ও সোনাহাট ইউনিয়নের সংযোগ সড়কে অবস্থিত এই ব্রিজটি নির্মিত হয় ব্রিটিশ আমলে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ব্রিজের পাটাতনসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) ১০ টনের বেশি মালবোঝাই যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার প্রায় ১০টি ইউনিয়নের মানুষ এই ব্রিজ ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। এছাড়া ব্রিজের পূর্বপাড়ে অবস্থিত সোনাহাট স্থলবন্দরের কারণে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি চক্র ৬ চাকার ট্রাকের পরিবর্তে ১০ চাকার ট্রাক, যা ৩০ টনের বেশি মালামাল পারাপারে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে ব্রিজের ওপর যাতায়াত করার পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। এভাবে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
সোনাহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মামুন মিয়া বলেন, সামনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অনেক কর্মজীবী মানুষ বাড়িতে ফিরবেন। এ সময় যদি ভারী যানবাহনের চাপে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে। তাই দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাৎ হোসেন জানান, ব্রিজের ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর যানবাহন চলাচলে যে বিধি নিষেধ আরোপ করেছে এটি মেনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন জানান, পুরাতন ব্রিজটির দক্ষিণ পাশে নতুন ব্রিজের কাজ নির্মাণ চলছে। চলতি বছরে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে মানুষের চলাচলের জন্য কয়েক দফায় পুরাতন ব্রিজটি মেরামত করা হয়েছে। নতুন ব্রিজ পুরোপুরি নির্মিত হলে জনভোগান্তি কমে আসবে।
বিডি-প্রতিদিন/এমই