দিনাজপুরের ৯টি উপজেলার ৫০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়ে প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার আয়োজন করে গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটাল, দিনাজপুর। এতে সহযোগিতা করে জার্মানভিত্তিক সংস্থা আন্ধেরী হেলফি বন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চোখ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অমূল্য সম্পদ। দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে একজন মানুষ নানা ধরনের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের চোখের যত্ন সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সমাজ ও দেশের মানুষ গড়ার কারিগর। তাই পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চোখের পরিচর্যা, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং চক্ষুরোগ প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতন করাও শিক্ষকদের নৈতিক দায়িত্ব।’
কর্মশালায় দিনাজপুর জেলার কাহারোল, পার্বতীপুর, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী, চিরিরবন্দর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বীরগঞ্জ উপজেলার ৫০ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে চক্ষু দৃষ্টিশক্তি, অন্ধত্ব ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ, শিশুদের চক্ষুরোগ, প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা এবং সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন গাওসুল আযম বিএনএসবি আই হসপিটালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াদ ইবনে মাহামুদ।
বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি মো. আতাউর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির দিনাজপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী মোসাদ্দেকুল ইজদানী।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সফিকুল হক ছুটু, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. জনাব আলী, কোষাধ্যক্ষ সুজাউর রব চৌধুরী এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আব্দুস সবুর চৌধুরী, মো. আফতাব উদ্দিন মণ্ডল, আবুল কালাম, মো. জিয়াউল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলামসহ অন্যান্যরা।
দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রাথমিকভাবে চক্ষুরোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল