রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রিয়াদ রশিদ (২৭) নামে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি জাফরাবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুর রশিদের ছেলে। তিনি রাশিয়ান সেনাবাহিনীতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গতকাল নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় নিহত রিয়াদ রশিদের সহকর্মী লিমন দত্ত ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর সংবাদটি জানান। লিমন রাশিয়ায় রিয়াদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর একই ক্যাম্পে চাকরিরত ছিলেন। তার বাড়ি নরসিংদী জেলায়।
লিমন দত্ত জানান, রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার ঘটনাটি ঘটে গত ২ মে। এ ঘটনায় দুজন বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য নিহত হন। আহত হন আরও তিনজন। হামলায় লিমন দত্ত নিজেও একটি পা হারিয়ে সেখানকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদ রশিদের চাচাতো ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে রিয়াদ রশিদ চতুর্থ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বেসরকারি একটি সংস্থায় চাকরি করতে রাশিয়ায় যান তিনি। গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে রিয়াদসহ আরও অনেক বাংলাদেশি যোগদান করেন। রিয়াদ রশিদের ব্যাচ নম্বর ৭৩৫। তিনি আরও জানান, রিয়াদ রশিদের সঙ্গে তার পরিবারের শেষ কথা হয় ২৮ এপ্রিল। আর ম্যাসেঞ্জারে তাকে অনলাইনে দেখা গেছে ২৯ এপ্রিল রাত ১০টা পর্যন্ত। রিয়াদ রশিদের লাশের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি। রিয়াদ রশিদের বাবা জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শরীরচর্চা শিক্ষক আবদুর রশিদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাকে জানায়নি। জানালে আমি আমার ছেলেকে কখনই যোগদান করতে দিতাম না। ছেলের লাশের সন্ধান পাচ্ছি না। ড্রোন হামলায় নাকি তার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। বাবা হিসেবে এ কষ্ট কেমন করে সহ্য করব? করিমগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এমরানুল কবির বলেন, পুলিশ নিহত রিয়াদ রশিদের বাড়িতে গিয়েছিল। পরিবারের সদস্যের মাধ্যমে মৃতু্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সংবাদটি পেয়েছি। নিহত রিয়াদের লাশের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার পরিবারকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।