শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:২৭

শারদীয় শুভ্রতা

শারদীয় শুভ্রতা
► মডেল : শাওন দত্ত ► পোশাক : কে-ক্রাফট ► মেকওভার : আফরোজ মিনু ► ছবি : রাফিয়া আহমেদ

বৃষ্টিভেজা সবুজ মাড়িয়ে প্রকৃতিতে এসেছে ঋতুরানী শরৎ। সঙ্গে এনেছে দিগন্তজোড়া কাশবন, মাতাল হাওয়া, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর চারপাশে থই থই করা জলে শাপলা-কমলের জলকেলি। এ যেন দারুণ এক উৎসব। প্রকৃতি নিজেই ডাক দিয়েছে শারদীয় শুভ্রতায় সবাইকে শুদ্ধ হতে। ঋতুরানীর এমন আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন- তানিয়া তুষ্টি

 

সময় অসময়ে আকাশজুড়ে থাকে মেঘের আনাগোনা। কখনো রোদের ঝিলিক কখনো বৃষ্টিজলে ধোয়া আকাশ সাজছে রংধনুর সাতটি রঙে। ক্ষণে ক্ষণে ঋতুরানী শরতের এমন দুরন্তপনা উচ্ছ্বল কিশেরীকেও হার মানাবে। তার এই বিচিত্র রঙের খেলায় মত্ত হতে চায় আমাদের। তাই তো প্রকৃতির এই রূপ বদলের সঙ্গে বদলে যায় সবার সাজ পোশাকের ধরন। বছরের এ সময়টাতে ফ্যাশন হাউসগুলো বর্ষার কথা মাথায় রেখে পোশাক তৈরি করে থাকে। প্রতিটি পোশাকের জন্য কাপড়, রং ও ডিজাইন নির্বাচন করা হয় বিশেষভাবে। বৃষ্টি, বর্ষার ফুল, লতাপাতা, মেঘলা আকাশ উঠে আসে পোশাকের মোটিফ হিসেবে। এ ছাড়া ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, হালকা অ্যামব্রয়ডারি ও চুমকির কাজ থাকতে পারে পোশাকগুলোতে। রঙের ক্ষেত্রে সবুজ, নীল, ছাই, আকাশি সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে এই সময়ের পোশাকগুলোতে।

বাদল হাওয়ায় আমাদের মন ময়ূরও পেখম তুলে নাচতে চায়। তাই তো সবার অগোচরেই বর্ষার সঙ্গে নীল রঙের একটি গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। আর তাই এই সময়ে নীলের ছটায় নীলাম্বরী হতে প্রস্তুত রমণীরা। বর্ষায় সময়োপযোগী সাজে নিজেকে উপস্থাপন করতে নীল শাড়ির তুলনা নেই। এই নীলেও রয়েছে কত শত বৈচিত্র্য। গাঢ় নীল, হালকা নীল, আসমানি নীল, ময়ূরকণ্ঠী নীল, রয়েল ব্লু, নেভি ব্লু আরও কত কী? এই নীলকে সাজাতে ব্যবহার হয় মানানসই আরও অনেক রং। শাড়ির নীল জমিনে ফুটে ওঠে ফিরোজা, সাদা, ছাই, সোনালি, খয়েরি, সবুজ, হলুদ, গোলাপির নান্দনিক ডিজাইন। এগুলোর ভিতর থেকে যে যার পছন্দমতো ডিজাইনের শাড়িটি অঙ্গে জড়িয়ে নিচ্ছেন বর্ষার আগমনে।

সময়টা যেহেতু বৃষ্টির তাই জর্জেট বা সিল্কের কাপড়কে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে যারা খুবই ব্যস্ত থাকেন, পোশাকের যতœ নেওয়ার সময় কম তাদের জন্য এই আবহাওয়ায় সিল্ক, হাফসিল্ক, জর্জেট, মিক্সড কাপড়ের পোশাক পরা বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ এই ধরনের পোশাক ভিজলে দ্রুত শুকিয়ে যায়। দাগ লাগলেও তা উঠানো সহজ। বর্ষায় জর্জেট শাড়ির সঙ্গে সুতি প্রিন্টের ব্লাউজ পরা যায়। হাফ হাতা কিংবা হাতা কাটা ব্লাউজের নকশাটি ফুলেল মোটিফের হলে চলতি ঋতুর সঙ্গে ভালো মানাবে। এখন চলছে গোল কিংবা বোট গলার ব্লাউজ। একরঙা ব্লাউজও পরা যেতে পারে শাড়ির সঙ্গে মিলিয়ে। বর্ষার জর্জেট শাড়ির নকশায় এখন জনপ্রিয় ফুলেল ছাপা। বাদলা দিনে উজ্জ্বল রঙের শাড়িই বেশি মানাবে। জর্জেট শাড়ির আলাদা বিশেষ করে যত্ন ও নিতে হয় না। সুতি কাপড়ে ঘটে উল্টোটা। তাই কোনো রকম ঝামেলা পোহাতে না চাইলে যে কোনো অনুষ্ঠানে পরে যেতে পারেন অ্যান্ডি সিল্কের পোশাক। এগুলো পরলে পোশাকের সৌন্দর্যহানির কোনো রকম চিন্তা আপনাকে পোহাতে হবে না। কোনো অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে অন্যান্য উজ্জ্বল রঙের পোশাক নির্বাচন করতে পারেন। কারণ মেঘলা দিনে আবহাওয়া অনেকটা অন্ধকার থাকে। রং যেন দৃষ্টিকটু না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

শরতের এই সময়টাতে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রভাব ফেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গোটা বাঙালির ওপরে। তাই শরৎ শুভ্রতায় যখন নিজেকে শুদ্ধি করবেন তখন কিন্তু এই উৎসবও বাদ যাবে না। ষষ্ঠী দিয়ে শুরু হয় পূজা। তবে পূজা পুরোপুরি জমে ওঠে সপ্তমী থেকে। এ জন্য সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর রাতে আরতি, ঘুরতে যাওয়া আর বাসায় থাকে আগত অতিথির ভি। আর তাই তো একেক দিন আপনার সাজপোশাকে থাকতে পারে ভিন্নতা। সপ্তমীতে মেয়েরা পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন চওড়া পাড়ের কাতান শাড়ি। সঙ্গে সোনা, রুপা বা ইমিটেশনের ভারি গহনা। হাতভর্তি চুড়ি। পুরুষের জন্য পাঞ্জাবিই সেরা। সঙ্গে থাকতে পারে প্যান্ট, পায়জামা অথবা ধুতি। তবে একটু ক্যাজুয়াল ভাব থাকলেও খুব বেশি মন্দ লাগবে না। এ সময় স্বস্তির খোঁজে টি-শার্টও পরতে পারেন। একটি করে দিন গড়াতে থাকে আর পূজার আড়ম্বর বাড়তে থাকে। অষ্টমীতে থাকে কুমারী পূজা। বিশেষ করে অষ্টমীতে মেয়েরা বেছে নেন লাল সাদা শাড়ি। সাজেও থাকে লালের আধিক্য। হাতভর্তি চুড়ি, আলতা লিপস্টিকে মেয়েরা হয়ে ওঠে পুরোদস্তুর বাঙালি রমণী। চুলের বেণিতে ঝুলতে পারে একগোছা তাজা ফুল।

 

নবমীর দিন ভরপুর খাওয়া-দাওয়া আর ঘুরে বেড়ানো। দিনের বেলা কিংবা সন্ধ্যা আরতি সব সময়ই থাকতে পারে জাঁকজমক সাজ। আর তাই তো মেয়েদের জন্য ভারি কাজের শাড়ি, লেহেঙ্গা অথবা থ্রিপিস হবে পোশাক বাছাইয়ে উপযুক্ত পছন্দ। জর্জেট, কাতান বা সিল্কের শাড়িতে পুঁতি, জার্দসি, ডলার বসানো থাকলে অন্যরকম গ্লামার আনবে। আজকাল সুতা ও জরির নজরকাড়া নানা কাজ থাকছে শাড়িতে। এগুলো হতে পারে যে কোনো রমণীর পূজার পোশাক। গলা, কানে ও হাতে থাকবে ভারি গহনা। তবে সব সময় মনে রাখতে হবে, সাজের আধিক্যে আপনি যেন হারিয়ে না যান। শাড়ির পরিবর্তে আজকাল লেহেঙ্গাও বেছে নিচ্ছে মেয়েরা। তাছাড়া ভারি কাজের থ্রিপিসে মন্দ লাগবে না। এই সময় একটু ভারি মেকআপই প্রযোজ্য। শারদীয় দুর্গাপূজার প্রধান আকর্ষণ দশমী। এই দিনের সাজ মানে শাড়ি বা থ্রিপিসে লালের ছটা। সেখানে লাল পেড়ে সাদা শাড়ি, একদম লালরঙা শাড়ি বা সাদা জামদানি আর লাল ব্ল­াউজে হাতের কাজের নকশা থাকলে মন্দ হয় না। গোল্ডেন বা সিলভার রঙের শাড়িও মানাবে। তবে যে ধরনের শাড়িই পরুন না কেন মিলিয়ে ব্ল­াউজ আর ব্যবহৃত অর্নামেন্টস অবশ্যই গর্জিয়াস হওয়া চাই সঙ্গে সাজটাও। শুধু শাড়ি নয়, মাঝে মাঝে থ্রিপিস, লেহেঙ্গা বা আনারকলি স্টাইলের ড্রেসও পরা যেতে পারে। কেউ যদি একান্তই শাড়ি না পরতে চান তাহলে সাদা আর লালের মিশ্রণে কোনো সালোয়ার-কামিজও পরে যেতে পারেন। সাজে ছেলেরাও কিন্তু পিছিয়ে নেই। পূজার শুরুর দিনগুলোতে তারা হালকা রঙের পাঞ্জাবি ও পায়ে আরামদায়ক ফিতে যুক্ত স্যান্ডেল পরতে পারেন। আর শেষ দিনগুলোতে জমকালো পাঞ্জাবি, ফতুয়া পছন্দ করতে পারেন। যারা একটু অন্যভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান তারা ধুতি পরতে পারেন।

 

সাজগোজ

বর্ষায় মুখের সাজ হালকা হলেই ভালো লাগবে। কপালে মানানসই টিপ এবং চোখে নীল, সবুজ বা ছাই রঙের কাজলের টান দিতে পারেন। চোখের সাজের ক্ষেত্রে ওয়াটারপ্রুফ কাজল, মাশকারা, লাইনার ব্যবহার করুন। আইশ্যাডো দিলে হালকা কোনো রং বেছে নিন। হালকা ফেস পাউডার লাগাতে পারেন। লিপস্টিকের বেলায় গ্লে­াসি হলেই ভালো। হালকা গোলাপি, বাঙ্গি, হালকা বাদামি ধরনের রং বাছাই করতে পারেন লিপস্টিকের ক্ষেত্রে। এই সময় হাতে একগোছা চুড়ি না থাকলে চলে? নীল তো বটেই, থাকতে পারে অন্য রঙের উপযোগী মিশ্রণ। বর্ষার সময়ে চুলের জন্য চাই বর্ষা উপযোগী বাঁধন। যাদের চুল লম্বা বা মাঝারি, তারা হাত খোঁপা করতে পারেন। আপনার চুলগুলোকে সুন্দর করে গুছিয়ে নিন। এবার সব চুল একসঙ্গে মাথার নিচের দিকে এনে সেখানে ধরে হাতের সাহায্যে খোঁপা করে নিন। খোঁপা আটকানোর জন্য ব্যবহার করতে পারেন চুলের কাঁটা বা কিপ। পনিটেল বাঁধতে চাইলে সব চুল ভালোভাবে গুছিয়ে পেছনে নিয়ে রাবার ব্যান্ড বা ক্লিপ দিয়ে আটকে নিন। এভাবে চুল বাঁধার উপায়টি সব থেকে সহজ আর যে কোনো পোশাকের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে যায়। চাইলে সাধারণ বেণির পাশাপাশি করতে পারেন ফ্রেঞ্চ বেণিও। ছোট-বড় সব সাইজের চুলেই এ বেণি খুব সুন্দরভাবে করা যায়। চাইলে বর্ষার কোনো ফুল গুঁজে নিতে পারেন চুলে।


আপনার মন্তব্য