বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১০০ জনের জন্য। ছয়টি হলের বেশির ভাগই জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত কক্ষে ভরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় হলগুলোতে আসনের তুলনায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ নগরীর বিভিন্ন মেসে থেকে পড়াশোনা করেন। অথচ কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি থাকার পরও আবাসন সংকট সমাধান হচ্ছে না। কলেজ সূত্র জানায়, ৫৮ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত বিএম কলেজে স্নাতক (সম্মান) ২২টি ও স্নাতকোত্তর ২১টি বিভাগ চালু আছে। বরিশালের বাইরের সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে এলেও আবাসন সুবিধা অপ্রতুল হওয়ায় মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে অধিকাংশকে। কলেজের হলগুলোর বেশির ভাগই ৮০ থেকে ১০০ বছরের পুরনো। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন খুলে পড়া প্লাস্টার, ফাটল, ভেজা দেয়াল এগুলোর মধ্যেই চলছে জীবনযাপন। নিরাপদ আবাসনহীনতা শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে। যা শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও প্রভাব ফেলে।
কলেজ সূত্র জানিয়েছে, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম) হলে ১৫০ জনের বিপরীতে থাকেন ৩০০ শিক্ষার্থী। বর্তমানে কিছু রুম পরিত্যক্ত। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মহাত্মা অশ্বিনী কুমার (ডিগ্রি) হলে ৩৫০ আসনের বিপরীতে থাকেন ৮০০ শিক্ষার্থী। এই হলে এ ব্লকের অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে ২০০ জনের মতো শিক্ষার্থী থাকেন। সেখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কবি জীবনানন্দ দাশ (হিন্দু) হলে আসন সংখ্যা ১৫০ জনের বিপরীতে থাকেন ২৫০ জনের মতো শিক্ষার্থী। ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বনমালী গাঙ্গুলী মহিলা হলে ৪০০ আসনের বিপরীতে থাকেন ৭৫০ শিক্ষার্থী। সুরেন্দ্র ভবনে ৩০ আসনের বিপরীতে থাকেন ৪০ শিক্ষার্থী ও নৃপেন্দ্র ভবনে থাকেন ২০ জনের মতো শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, নগরীতে মেসের ভাড়া মাসে চার হাজার থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। খাবারের খরচ তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এই ব্যয় একজন নিম্ন-মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর জন্য বড় বোঝা। নতুন কমপক্ষে ৩/৪টি হল নির্মাণ প্রয়োজন। পুরোনো হলগুলোর জরুরি সংস্কার অপরিহার্য। বিএম কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বহু বছর ধরে আবাসন সংকট চলছে। নতুন হল ও পুরোনো হলগুলোর সংস্কার প্রয়োজন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর আশ্বাস দিয়েছে, তবে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।’