পাকিস্তানের জন্য বড় এক আশার আলো দেখাচ্ছে সৌদি আরব। পাকিস্তানে কঠিন সময়ে পূর্ণ আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রিয়াদ। এদিকে, পাকিস্তানের ‘অর্থনৈতিক সমর্থন’ প্রদর্শনে সৌদি অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান এখন ইসলামাবাদ সফর করছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ঋণ ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিন পরই ইসলামাবাদ সফর করছেন সৌদি অর্থমন্ত্রী। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি ‘ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক উষ্ণ ও আন্তরিক টেলিফোন আলাপের কথা স্মরণ করেন’ এবং ‘পাকিস্তানের প্রতি ক্রাউন প্রিন্সের গভীর আন্তরিকতা এবং বছরের পর বছর ধরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতে সৌদি আরবের দীর্ঘস্থায়ী সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। -আলজাজিরাযা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদ যখন মার্কিন-ইরান আলোচনার আয়োজন করছে, ঠিক সে সময়ে সৌদি মন্ত্রীর এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে তিনি সরাসরি সে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না। সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলমান দূরত্বের মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে নতুন জোট সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তাঁর সফরকে সেই সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অর্থসংকটে থাকা পাকিস্তান সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা ২০১৮ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকে নেওয়া ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ পরিশোধ করবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, ঋণের পরিমাণ বাড়ানো, ক্রেডিট লাইনের প্রসার এবং তেল আমদানিতে বিশেষ আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সৌদি আরবের কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ এবং তেল আমদানিতে আর্থিক সুবিধার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। উল্লেখ্য, এ মাসেই পাকিস্তানকে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ইউরোবন্ড ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে এখন সৌদি আরবের এ সহযোগিতা পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। -আলজাজিরা