Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:৩২

কৃষি সংবাদ

শখের ছাদবাগানে বারোমাসি আম

মাহমুদ আজহার

শখের ছাদবাগানে

বারোমাসি আম

রাজধানীর মালিবাগের আবদুস সালাম। বয়স ৭২ বছর। তার চার তলার বাড়িতে রয়েছে একটি দুর্লভ ‘ছাদবাগান’। শখের বসে এ বাগান করেছেন। বছরের সব ঋতুতেই পাওয়া যায় নানা ধরনের ফল। এখনো পাকা আম ঝুলে আছে ওই ছাদবাগানে। শুধু আম নয়, ৫ কাঠা ওই বাগানজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফুল, ফলসহ অন্তত ১০০ প্রকারের গাছগাছালির সমাহার। বাগানে এখনো অন্তত ১৫ ধরনের আম গাছ রয়েছে। কোনোটিতে মুকুল, কোনোটিতে ছোট আম, আবার কোনোটিতে কাঁচাপাকা আম শোভা পাচ্ছে। প্রায় এক যুগ ধরে করা এই শখের বাগানে সব মৌসুমেই আম খায় আবদুস সালামের পরিবার। বাগানে আম্রপালি, মল্লিকা, বেনিসন, হিমসাগর, ল্যাংড়া, কাঁচা মিঠা, কিউজিয়াই, নাম দোখমাই, থাই ভ্যারাইটি, গোপালভোগ, বারোমাসি, লতা বোম্বাই প্রভৃতি আম গাছ লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে আম্রপালি, থাই ভ্যারাইটি আমের পাশাপাশি বারোমাসি আম গাছেও দেখা মেলে পাকা আম। শখের বাগান প্রসঙ্গে গতকাল অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবদুস সালাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘বছরজুড়েই বাগান থেকে আমি আম খাই। এখন তিনটি গাছে পাকা আম ধরেছে। শুধু আম গাছ নয়, আমার শখের বাগানে নানা প্রকার ফুল গাছও রয়েছে। আমি অবসরের পুরো সময়টা ছাদের বাগানে কাটাই। এ কাজে আমার সহধর্মিণী হুসনে আরা সালাম সার্বিক সহযোগিতা করেন। সন্তানের মতোই বাগানকে আমি ভালোবাসি।’ বাগান ঘুরে দেখা গেছে, আম্রপালি আম গাছের কয়েকটিতে মুকুল ধরেছে। আবার কয়েকটিতে কাঁচাপাকা আমও রয়েছে। থাই ভ্যারাইটি গাছেও পাকা আম দেখা যায়। বারোমাসিতেও ধরেছে আম। মুকুলও রয়েছে। কোনো কোনো গাছের মুকুলে মৌমাছিসহ নানা প্রকার পাখপাখালির ঘোরাফেরা। বিভিন্ন প্রকার ডালিয়া ফুল, চন্দ্রমল্লিকাসহ সরিষা ফুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা বাগানসহ পুরো এলাকা। সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা শখের বাগানে পিয়াজ, রসুন, বেগুন, লেবু, গোল আলু, টমেটো, শিম, করলা, আদা, মিষ্টি মরিচ, কামরাঙা মরিচ, গোলমরিচসহ বিভিন্ন প্রকার মরিচ চাষও করেছেন। ডালিম গাছেও ফল ধরেছে। জামরুল গাছেও শোভা পাচ্ছে সবুজ মিষ্টি জামরুল। সৈয়দ পেয়ারাসহ বিদেশি ছোট জাতের পেয়ারাও রয়েছে আবদুস সালামের বাগানে। নানা ধরনের বরই গাছের মধ্যে রয়েছে আপেলকুল, বাউকুল ও থাইকুল। পেঁপে গাছের পাশাপাশি রয়েছে সৌদি আরবের খেজুর গাছও। ঔষধি গাছের মধ্যে রয়েছে আমলকী, অর্জুন, কালোমেঘ, তুলসী, পাথরকুচি, নিম, ফণিমনসা, পিপুল, পান মসল্লা প্রভৃতি। চার জাতের অর্কিডও শোভা পাচ্ছে বাগানে। রয়েছে গোলাপ, টগরসহ দেশি-বিদেশি নানা ফুল। কয়েক প্রকার জামরুলের মধ্যে বাগানে রয়েছে থাইল্যান্ডের লাল জামরুল, স্ট্রবেরি জামরুল, সাদা জামরুল ও সবুজ জামরুল। উন্নতমানের গোলাপজাম, জাম্বুরা, জাম গাছ, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম, টিপফল ও ডালিম আছে বাগানে। রয়েছে দুধকচু গাছও। বট, পাকুড় ও তালের বনসাইও নজর কাড়ে বাগানে। অনেকেই বাগান সম্পর্কে ধারণা নেন আবদুস সালামের কাছ থেকে। ছাদবাগান তৈরিতে উৎসাহও জোগান তিনি। সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘পারিবারিক জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি সময় আমি বাগানে কাটাই। গাছকে আমার কাছে বন্ধু বলে মনে হয়। যখন বাগানে যাই, মনে হয় গাছগুলো আমাকে দেখে হাসছে কিংবা ক্ষুধায় কাঁদছে। বাগানে প্রবেশমাত্রই আমার মন ভালো হয়ে যায়।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর