শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০১৮ ০০:০৮

রমজানেও সংযমে নেই বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রমজানেও সংযমে নেই বাজার

পবিত্র রমজান মাসেও নিত্যপণ্যের দামে সংযম মানা হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও মুনাফালোভীরা এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন। সরকারের বাজার মনিটরিং সেল বলছে, সব পণ্যের সরবরাহ আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, দাম কমছে না, বরং বাড়ছেই। গতকাল ১৫ রমজানের দিনে দেখা গেছে, ৪০ টাকার বেগুন হয়েছে ৬০ টাকা, ৩০ টাকার কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, ৩০ টাকার শসা ৪০ টাকা, ১৫০ টাকার ধনে ও পুদিনাপাতা হয়েছে ৩০০ টাকা। ৫৬ টাকার চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭২ টাকায় এবং ৭০ টাকার ছোলা ৭৮-৮০ টাকায়। এভাবে প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। রাজধানীর বনলতা বাজারের ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রমজানের শুরুতেই আমরা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি। প্রতিটি পণ্যের দাম বাড়িয়েছে তারা। মুসলিম বিশ্বের সব দেশে রোজায় যেখানে নিত্যপণ্যের দাম কমে, সেখানে বাংলাদেশের চিত্র ঠিক উল্টো। আমাদের দেশের অতিলোভী ব্যবসায়ীরা যেন সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন রোজার মাসের। বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অন্য যে কোনো দিনের তুলনায় নিত্যপণ্যের বাজার একটু গরমই থাকে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোজা। এ দুইয়ে মিলে গতকাল রাজধানীর বাজারে ছিল কিছুটা উত্তাপ। দাম বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি দেখা গেছে সবজি ও মাংসের বাজারে। অন্যান্য বছরের মতো চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা ও খেজুরের দাম অতটা না বাড়লেও দাম বৃদ্ধির দৌড়ে পিছিয়ে নেই এসব পণ্যের ব্যবসায়ীরাও। ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বাজার করতে আসা সরকারি কর্মকর্তা আফজাল হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আসলে অতিমুনাফার লোভেই ব্যবসায়ীরা বেসামাল হয়ে উঠেছেন। সরকারের উচিত ছিল রোজার দু-এক দিন আগে থেকেই বাজারে জোরালো অভিযান চালানো। কিন্তু তা না করায় ব্যবসায়ীরা আরও বেশি সুযোগ পেয়ে গেছেন দাম বাড়ানোর।

বাজারে কোনো পণ্যেরই সরবরাহে কমতি নেই। যদি এক সপ্তাহ আগের বাজারদর আর গতকালের বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করা যায় তাহলে পণ্যমূল্যের বিস্তর তফাত চোখে পড়ে। দুই সপ্তাহ আগে বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি।

আর গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়। অর্থাৎ বেগুনে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ টাকা। এ ছাড়া ২০ টাকার কাঁচা মরিচ ৬০, ৩০ টাকার শসা ৫০, ৩০ টাকার টমেটো ৫০, ১৫০ টাকার ধনে ও পুদিনাপাতা ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ টাকা হালির লেবুর দামও এখন রাখা হচ্ছে ২০ টাকায়। এসব পণ্যের সবই মূলত ইফতারির একেকটি অনুষঙ্গ। এ কারণেই ব্যবসায়ীরা এ পণ্যগুলোরই দাম বেশি বাড়িয়েছেন। সবজির বাজারে অন্যান্য সবজিরও দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। প্রশ্ন হলো, সরবরাহ ঠিক থাকার পরও কেন এত দাম বাড়ল?

গতকাল রাজধানীর বনলতা ও বনানী বাজার ঘুরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দাম বৃদ্ধির বেশ কয়েকটি কারণও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো রোজার সময় এসব পণ্য হাতবদল হয় বেশি। কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী এ সময় ব্যবসায় নামেন রোজার এক মাসে বাড়তি কিছু লাভের আশায়। কিন্তু এ লাভ করতে গিয়ে যে তারা ক্রেতার পকেট কাটছেন সে খেয়াল করেন না। সবজি বাজারের মতোই মুদি দোকানেও পণ্যমূল্য বেড়েছে অনেক। সারা বছরই চিনি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়, গত সপ্তাহেও পণ্যটি বিক্রি হয়েছে ওই একই দামে। কিন্তু প্রথম রোজার দিন থেকে চিনির দাম বেড়ে হয়েছে ৬২ টাকা। ছোলা ৭০ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এ ছাড়া কেজিপ্রতি পিয়াজে (ভারতীয়) ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়, দেশি পিয়াজ ৪০ টাকায়, রসুন ১২০ টাকার বদলে ১৩০, আদা ১২০ টাকার বদলে ১৩০, মসুর ডাল ৯০ টাকার বদলে ১০০ এবং বেসন ৫০ টাকার বদলে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মুড়ির দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। গতকাল ১ কেজি মুড়ি মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

মাংসের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়, খাসির ৬৫০-৭০০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৭০ টাকায়। এ ছাড়া লেয়ার মুরগি ১৭৫ টাকায়, দেশি মুরগি ৪০০-৪৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে বিক্রেতারা যে যেমন পারছেন ক্রেতার কাছ থেকে দাম আদায় করছেন। তবে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। দাম চড়া, ৫০০ গ্রাম ৩০০ টাকায়, ৭৫০ থেকে ৮০০ গ্রাম ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া রূপচাঁদা ৭০০, রুই ২৮০, কাতল ২৫০, মানভেদে চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০, টেংরা ৫০০, শোল ৪০০, পুঁটি ৩০০, কাঁচকি ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।


আপনার মন্তব্য