Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৬

জুমিয়াদের মুখে তৃপ্তির হাসি

কবির হোসেন সিদ্দিকী, বান্দরবান

জুমিয়াদের মুখে তৃপ্তির হাসি

পাহাড়ে জুম খেতে এখন পাকা ফসল তোলার ভর মৌসুম। জুমিয়ারা ঘরে তুলছে জুমের সেই সোনালি ফসল। আর ফলানো ফসল দেখে জুমিয়া নারী-পুরুষের মুখে ফুটেছে হাসি। চোখে আশার আলো। জুম্ম নারীরা ব্যস্ত জুমের পাকা ধান কাটতে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জুম চাষ (পাহাড়ের ঢালে বিশেষ ধরনের চাষাবাদ)। জুমিয়ারা পাহাড়ের ঢালে বিশেষ পদ্ধতির এই আদি জুম চাষ করে থাকে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে জুম প্রস্তুত করার জন্য গাছপালা কাটা হয়। মার্চ-এপ্রিলের দিকে শুকনা গাছপালা আগুনে পুড়িয়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করা হয়। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয় ফসল তোলা। বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পাহাড়ে চলছে নবান্ন উৎসব। প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ হেক্টর পাহাড়ি ভূমিতে জুম চাষ হয়েছে এবার।  পার্বত্যাঞ্চলের পাহাড়ি মানুষের জীবিকার আদিম ও প্রধান উৎস এ জুম চাষ। তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে এ জুম চাষ করা হয়। জুমের পাহাড় এখন পাকা ধানে ভরপুর। তাই এ পাকা ধান বাড়িতে তোলা নিয়ে ব্যস্ত জুমিয়ারা। পাহাড়ি নারী-পুরুষরা জুম খেতের পাকা ফসল ঘরে তোলার পর তরুণ-তরুণীরা গানসহ নবান্নের উৎসবে মেতে উঠছে। তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়িদের জুম খেতে সবেমাত্র শুরু হয়েছে পাকা ধান কাটা। ধুম পড়েছে মারফা, বেগুন, ধানি মরিচ, ঢেঁড়স, কাঁকরোল, কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল তোলার কাজ। এরপর ঘরে উঠবে তিল, যব এবং সব শেষে তোলা হবে তুলা। এ মৌসুমে উপযুক্ত জলবায়ু ও বৃষ্টিপাতের কারণে এবং ইঁদুরের উৎপাত কম হওয়ায় ভালো ফলন হয়েছে। জুমের সোনালি ফসল ঘরে তুলতে পারায় জুম্ম নারী-পুরুষের মুখে হাসি। চোখে ফোটে উঠেছে আশার আলো। জুমে বীজ বপনের ৫ মাস পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের পর ফসল দেখে হাসি ফুটে ওঠে জুম চাষিদের মুখে। জুমিয়ারা পৌষ-মাঘ মাসে পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে রোদে শুকানোর পর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আগুনে পুড়িয়ে জুম চাষে উপযোগী করে তুলে। এরপর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পোড়া জুমের মাটিতে সুচালো দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধান, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, তুলা, তিল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন রকম বীজ বপন করে থাকে।

আর এসব জুমের ধান আষাঢ়-শ্রাবণ মাসেই পেকে থাকে। তারপর শুরু হয় জুমের ফসল তোলার কাজ । জুম চাষিদের চোখেমুখে আনন্দ দেখা দিলেও অল্প পরিমাণ জায়গায় জুম চাষ করে বছরের খোরাকি না হওয়ায় চিন্তিত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মাটির উর্বরতা হ্রাসের কারণে জুম চাষের পাহাড় কমে গেছে। তাই একই  পাহাড়ের মাটিতে বার বার জুম চাষ করায় এখন আর আগের মতো জুমে ভালো ফলন হয় না। তা ছাড়া জুমে এখন সার প্রয়োগ না করলে ভালো ফলন পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা কৃষি কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তা ছাড়া জুম চাষে নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করে কৃষককে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। এর ফলাফল মিলছে এ বছরের ফলনে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর