Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৫

উদ্ভিদের জীবন্ত জাদুঘর বোটানিক্যাল গার্ডেন

অভিযোগ, এমন সুন্দরের মধ্যেই বাসা বেঁধেছে অসুন্দর। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদাসীনতায় খোলামেলা উদ্যানটি অনেক দিন ধরেই পরিণত হয়েছে অনৈতিক কাজের আখড়ায়। উদ্যান যেখানে যত গভীর, দৃশ্য তত খোলামেলা

মোস্তফা কাজল

উদ্ভিদের জীবন্ত জাদুঘর বোটানিক্যাল গার্ডেন

উদ্ভিদের জীবন্ত জাদুঘর বলা হয় রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বোটানিক্যাল গার্ডেনকে। প্রায় ২৩০ একর আয়তন বোটানিক্যাল গার্ডেনের। এ স্থানটি মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ। এ উদ্যানের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও পরিবেশপ্রেমীরা বেড়াতে আসেন এখানে। এ ছাড়া গবেষণা কাজে জড়িতরাও এখানে আসেন।

অনেকের অভিযোগ, এমন সুন্দরের মধ্যেই বাসা বেঁধেছে অসুন্দর। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও উদাসীনতায় খোলামেলা উদ্যানটি অনেক দিন ধরেই পরিণত হয়েছে অনৈতিক কাজের আখড়ায়। উদ্যান যেখানে যত গভীর, দৃশ্য তত খোলামেলা। ফলে অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে দিন দিন নষ্ট হচ্ছে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পরিবেশ। উদ্যানের ভিতরে দিনে-দুপুরে চলে অসামাজিক কাজ। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাগানের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ উদ্যান জাতীয় সম্পদ। পর্যটক আকর্ষণ বাড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানালেন এ কর্মকর্তা।

উদ্যানে আসা গবেষণা কাজে জড়িত এম এ সালাম বলেন, এ উদ্ভিদ উদ্যানটি বাংলাদেশের উদ্ভিদ প্রজাতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। মিরপুরে উত্তর দিকে বেড়িবাঁধের কাছাকাছি রয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা, ঠিক তার পাশেই করা হয়েছে এ উদ্যান। এখানে রয়েছে ১১টি জলাশয়, অনেকগুলো ছোট-বড় পায়ে হাঁটা পথ। কোনোটা পিচঢালা, কোনোটা হয়তো ইটের, আবার একদম মেঠো পথও আছে। উঁচু টিলা আর নিচু জলাশয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে ভালোই লাগবে সবার। জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে বর্তমানে ১১৭টি গোত্রভুক্ত ৯৫২ প্রজাতির গাছপালা রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৬টি প্রজাতির ৩৫ হাজার বৃক্ষ, ৩১০ প্রজাতির ১০ হাজার গুল্ম, ৩৭৮ প্রজাতির ১২ হাজার বিরুৎ ও লতা জাতীয় উদ্ভিদ। উদ্যানটি মোট ৫৭টি সেকশনে বিভক্ত। রয়েছে শাপলা পুকুর ও গোলাকৃতির পদ্ম-পুকুর। একসময় শীতকালে বড় জলাশয়গুলোতে হাঁসজাতীয় পরিযায়ী পাখিরা আসত। জাতীয় উদ্যানের ১.৫ একরজুড়ে রয়েছে মৌসুমি ফুলের বাগান। সালভিয়া, মর্নিংগ্লোরি, মেরি-গোল্ড, ডালিয়াসহ প্রায় ৫২ জাতের বিদেশি মৌসুমি ফুলের চাষ করা হয় বাগানে। বাগান ঘিরে রয়েছে একটি আঁকাবাঁকা কৃত্রিম লেক। ১৯৮০ সালে প্রায় ৩.৫ একর জায়গার ওপর নির্মিত হয় উদ্যানের গোলাপ বাগান। দুটি পৃথক বাগানে প্রায় ২০০ প্রজাতির গোলাপ সংগ্রহ রয়েছে। একটি গোলাপ বাগানের মাঝে রয়েছে গোলাকৃতির একটি জলাশয়। এ জলাশয়ে সংরক্ষিত রয়েছে ব্রাজিলের আমাজন লিলি। ১৯৮০-৮১ সালে নির্মাণ করা হয় উদ্যানের দেবদারু-ইউক্যালিপটাস বাগান। ১৬ প্রজাতির ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি রয়েছে এখানে। বাঁশ বাগানে রয়েছে প্রায় ২২ প্রজাতির বাঁশ। গর্জন বাগানের উত্তর পাশে সৃষ্টি করা হয়েছে ভেষজ উদ্ভিদের বাগান।

এ বাগানে রয়েছে কালমেঘ, তুলসী, আতমোরা, শতমূলী, থানকুনি, আদা, বোতল ব্রাশ, তেলাকুচা, কুমারী লতা, বাসক, বচসহ হরেক ভেষজ উদ্ভিদের সংগ্রহ। উদ্ভিদ উদ্যানের প্রায় ৫ একর জায়গাজুড়ে একটি নার্সারি রয়েছে। এ নার্সারিতে ফুল, ফল, লতা, গুল্ম ইত্যাদি উদ্ভিদের চারা চাষ করা হয়। এই নার্সারি থেকে চারা কেনা যায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর