Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১১

আবার শুরু হচ্ছে দেশীয় কয়লার উৎপাদন

সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চীন জার্মানির সঙ্গে চুক্তি সই, আগ্রহী ভারতও

জিন্নাতুন নূর

আবার শুরু হচ্ছে দেশীয় কয়লার উৎপাদন

সরকার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতেই কয়লা উত্তোলনে ইচ্ছুক। বিশেষ করে পাশের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বার্ষিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পেট্রোবাংলা এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে জ্বালানি বিভাগকে অনুরোধ করেছে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কয়লা খনির উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইসহ দীঘিপাড়ার কয়লা খনিরও সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। বড়পুকুরিয়ার একেবারে উত্তর প্রান্তে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০১০ সালের মাস্টারপ্ল্যানে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হলে এর মধ্যে ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কয়লায় উৎপাদন হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় কয়লা দিয়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা। এজন্য প্রয়োজন ৩৬ মিলিয়ন টন কয়লা। কিন্তু বর্তমানে দেশের একমাত্র বড়পুকুরিয়া খনি থেকে বছরে ১ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। ফলে ঘাটতি থেকে যায় আরও ৩৫ মিলিয়ন টন কয়লার। এ ক্ষেত্রে নতুন খনি উন্নয়ন বা কয়লা উত্তোলন ছাড়া বিকল্প নেই।

জ্বালানি বিভাগ ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দিনাজপুরের দীঘিপাড়ায় কয়লা উত্তোলনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ২৭ মাসের এ জরিপ শেষ হওয়ার কথা ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট। সরকার এ লক্ষ্যে জার্মানির প্রতিষ্ঠান মিবরাগ কনসালটিং ইন্টারন্যাশনাল জিএমবিএইচ ও ফুগরো কনসালটিং জিএমবিএইচ এবং অস্ট্রেলিয়ার রাঞ্জ পিকক মিনারকো লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করেছে। দিনাজপুরের দীঘিপাড়ায় ২৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ওপর বাপেক্স এজন্য ২-ডি সার্ভের মাধ্যমে ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লার মজুদ নিশ্চিত করবে। এর মাধ্যমে সে স্থানের সেন্ট্রাল পার্টের ওপর ৬.০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার ওপর বার্ষিক ৩.০৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন ক্ষমতার একটি খনি নির্মাণের সম্ভাব্যতা জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খনির কাজ চালু থাকা অবস্থাতেই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে চলমান খনি কার্যক্রম বেসিনের উত্তর ও দক্ষিণাংশে বর্ধিত করতে আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ৪ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকার সমীক্ষা জরিপের জন্য সরকার ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান জন টি. বয়ড কোম্পানি এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠান মজুমদার এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে চুক্তি সই করে। সেখানে এরই মধ্যে ৩-ডি সিসমিক জরিপ ও টপোগ্রাফিক জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের কয়লা খনিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ভারতের কোল ইন্ডিয়াও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বড়পুকুরিয়া, খালাসপুর ও জামালগঞ্জে খনির কাজের জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে আলোচনাও হয়েছে। বাংলাদেশ এজন্য কোল ইন্ডিয়াকে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছে। এদিকে নানা মহলের বিরোধিতায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি এতদিন চাপা ছিল। তবে সরকার এবার উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্তে যাচ্ছে। পেট্রোবাংলা বড়পুকুরিয়া খনি থেকে ২০২৪ সাল থেকে বছরে ৩০ টন কয়লা উত্তোলনের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের খনির উত্তরাংশে খনির পানিব্যবস্থাসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত খনির বিষয়ে সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, খনি করা হলে সেখানে পানি ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। বড়পুকুরিয়ার উত্তরে ১০০ মিটার নিচেই কয়লা রয়েছে। জ্বালানি বিভাগের নির্দেশনায় এজন্য খনি কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছে। তবে সেখানে রয়েছে ঘনবসতি ও উচ্চ ফলনশীল জমি, যা খনি করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। তবে এ খনির উত্তরাংশ থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে আগামী ৩০ বছরে ১১০ মিলিয়ন টন কয়লা তোলা সম্ভব। আর খনির ১১৮ থেকে ৩৭২ মিটার গভীরতায় কয়লা রয়েছে। তবে উত্তর বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে খনি করা গেলেও এ খনির দক্ষিণে সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতেই কয়লা তুলতে হবে। এটারও সমীক্ষা চলছে। জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের মজুদ কয়লা উত্তোলন করা হলে তা আগামী ৩০০ বছরে শেষ হবে। এখন আমরা যে পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করছি তার থেকে ১০ গুণ বেশি কয়লা উত্তোলন করলেও কোনো সমস্যা নেই। আবার কৃষকের জমি ও ধান উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার বিষয়টিও আমরা বিবেচনা করছি। নতুন কয়লা খনি আবিষ্কারের জন্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এজন্য আমরা ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে দিয়েছি।’ বর্তমানে দেশে পাঁচটি কয়লা খনি আছ। এগুলো হচ্ছে— বড়পুকুরিয়া, জামালগঞ্জ, খালাসপুর, দীঘিপাড়া ও ফুলবাড়ী। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়ার মধ্য ও দক্ষিণাংশে সুড়ঙ্গ পদ্ধতিতে ২০০৫ সাল থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়লা তোলা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর