Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৪

প্রস্তুতি চলছে ডাকসু নির্বাচনের

ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

নাসিমুল হুদা, বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রস্তুতি চলছে ডাকসু নির্বাচনের

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন । নির্বাচনের জোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান ডাকসুর ২১ বছরের পুরনো গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছেন। গঠনতন্ত্রে যুগোপযোগী সংশোধন আনতে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ১৩টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে গতকাল বৈঠক করেছে কমিটি। সংগঠনগুলোকে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।   

প্রসঙ্গত, ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন। এরপর ১৯৯১, ১৯৯৪, ১৯৯৫ ও ২০০৫ সালে তফসিল, এমনকি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও সহিংস ঘটনা, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও ছাত্রসংগঠনের বিরোধিতা ইত্যাদি কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে নির্বাচনের দাবি আবার সামনে আসে। ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশনা চেয়ে গত পাঁচ বছরে উচ্চ আদালতে পৃথক দুটি রিট আবেদন করা হয়। ছয় বছর আগের একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে গত বছর ১৭ জানুয়ারি এক রায়ে হাই কোর্ট ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সাত মাসে আয়োজন দৃশ্যমান না হওয়ায় গত ৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উকিল নোটিস পাঠান রিটকারীদের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ অক্টোবর চেম্বার বিচারপতি হাই কোর্টের রায় স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। সেই শুনানি শেষে গত রবিবার হাই কোর্ট জানায়, মার্চে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই।

গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সভাকক্ষে ১৩ ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক দেড়টা পর্যন্ত চলে। এতে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করে। পরে  বৈঠকের বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মিজানুর রহমান ও অন্যান্য ছাত্র নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। ড. মিজানুর রহমান বলেন, সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডাকসু গঠনতন্ত্র সংশোধন হয়েছিল। এরপর আর নির্বাচন না হওয়ায় এটিকে আর পরিমার্জন করার প্রয়োজনীয়তাও অনুভূত হয়নি। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অতি শিগগিরই একটি সুন্দর ডাকসু নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর, তাই আমরা ছাত্র  নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করেছি। এখানে প্রায় সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন অংশগ্রহণ করে গঠনতন্ত্রের কোথায় কোথায় সংযোজন-বিয়োজন দরকার সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য দিয়েছে। যেহেতু অনেকে দাবি করছে তারা পর্যাপ্ত সময় পায়নি সেজন্য আগামী সোমবার পর্যন্ত লিখিত বক্তব্য দিতে তাদের সময় দেওয়া হয়। এর আগে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবকিছুই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার প্রয়াস আমাদের। সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি।’ বৈঠকে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি সূর্যসেন হলের প্রভোস্ট ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, আইন অনুষদের ডিন ড. রহমতুল্লাহ, রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, শামসুন নাহার হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সুপ্রিয়া সাহা। বৈঠক শুরুর আগেই সভাস্থলে উপস্থিত হন ছাত্রলীগ ঢাবি শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফয়জুল্লাহসহ অন্য ছাত্র সংগঠনের নেতারা। পরে তারা একসঙ্গে সভাকক্ষে প্রবেশ করেন। তবে বৈঠক শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর প্রক্টরিয়াল টিমের গাড়িতে করে যোগ দেন ছাত্রদলের বিশ^বিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী। ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবিসমূহ : বৈঠকসূত্রে জানা যায়, সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ ডাকসুতে সম্পাদক পদের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদক পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে। ঢাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের কিছু ধারায় আমাদের মনে হয়েছে এখানে টাইমফ্রেম বেঁধে দেওয়া প্রয়োজন। কারা ভোটার বা প্রার্থী হতে পারবেন এ বিষয়ে বলেছি। আমরা চাই সব সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’ নির্দিষ্ট কোনো দাবি জানায়নি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। তবে বর্ধিত সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য লিখিতভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাবি ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী। সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত না হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারি।’ এ ব্যাপারে উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘প্রভোস্ট কমিটি সব হলে সহাবস্থান আছে বলে আমাকে অবহিত করেছেন। সব শিক্ষার্থীই ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্য কার্যাবলি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারছে।’ এদিকে, ডাকসু সভাপতির (উপাচার্য) ক্ষমতা হ্রাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল করা (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের সদস্য ও ভোটার হওয়া, হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র স্থাপন, সেক্রেটারিয়েট বডির সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে বিধায় একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দানসহ নানা প্রস্তাব পেশ করে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনগুলো। এ বিষয়ে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ছাত্রফ্রন্ট সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘ডাকসু গঠনতন্ত্রে সভাপতিকে একচেটিয়া ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে পদাধিকারবলে সভাপতি (উপাচার্য) নির্বাচিত প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করতে পারেন। তাই আমরা সভাপতির ক্ষমতার হ্রাস চেয়েছি। এ ছাড়া ক্যাম্পাসে সহাবস্থান না থাকা ও অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানিয়েছি।’


আপনার মন্তব্য