শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১৮

মাঠের রাজনীতি

দল গোছাতে মন নেই নেতাদের

রাজশাহী বিএনপিতে চলছে মানঅভিমান

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

দল গোছাতে মন নেই নেতাদের

অ্যাডভোকেট আবদুল হাই ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতি। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন আদালত আর বাড়ি- এই পথে চলাচল তার। দলের বর্তমান নেতৃত্ব তাকে ডাকে না। ফলে তিনিও যান না। ক্ষোভ নিয়ে বললেন, ‘এখন যারা নেতা, তারা আর আমাদের মনে রাখেনি। আমাদের আর প্রয়োজন হয় না।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেছিলেন, দল গোছাতে নতুন উদ্যমে মাঠে নামবেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু এখন রাজশাহী জেলা আর নগর কোথাও তৎপরতা নেই বিএনপির। হারের হতাশা কাটিয়ে দল গোছাতে মন নেই নেতাদের। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু দাবি করেন, সরকারের নিপীড়ন আর ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে তারা কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কর্মীদের সাহস দিচ্ছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির প্রার্থীরা। এরা হলেন- রাজশাহী-১ আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক, রাজশাহী-২ আসনে মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনে শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ আসনে আবু হেনা ও রাজশাহী-৫ আসনে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ম-ল। রাজশাহী-৬ আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থী ছিলেন না । পাঁচটি আসনের মধ্যে একটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও চারটিতে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে ব্যারিস্টার আমিনুল হক ৮৫ হাজার ৩৮১, মিজানুর রহমান মিনু ১২ হাজার ১৪৬, শফিকুল হক মিলন ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৮২, আবু হেনা ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৫৫ ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

পরাজয়ের পর ব্যারিস্টার আমিনুল হক ও আবু হেনা রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় চলে যান। এলাকায় থাকলেও শফিকুল হক মিলন ও নজরুল ইসলামের সাংগঠনিক কোনো তৎপরতা নেই। মিজানুর রহমান মিনুও আসেন কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয় রাজশাহী মহানগর ও জেলা বিএনপির নতুন কমিটি। এ দুই কমিটির প্রাণ চার পদের তিনটিতেই বাদ দিয়ে নতুনদের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই রাজশাহী বিএনপিতে শুরু হয় কোন্দল। এ কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে অঙ্গ-সংগঠনের মধ্যেও। জেলা কমিটিতে নাদিম মোস্তফাকে বাদ দিয়ে তোফাজ্জল হোসেন তপুকে সভাপতি আর মতিউর রহমান মন্টুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তপু-মন্টু দায়িত্ব নেওয়ার পর দলকে সংগঠিত করার চেয়ে বিভক্ত করেছেন-এমন অভিযোগ নেতাদের। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা জানান, গত সংসদ নির্বাচনে জেলা কমিটির যে ভূমিকা থাকার কথা ছিল, তা রাখেনি। বরং কিছু ক্ষেত্রে দলকে বিভক্ত করতে উৎসাহ দিয়েছেন। নির্বাচনের পর দলের কর্মীরা হতাশ হয়েছে। নেতাদের দায়িত্ব ছিল, কর্মীদের সাহস দিয়ে সংগঠিত করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত জেলা কমিটি সে রকম কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দল গোছাতে তাদের কোনো মনোযোগ দেখছেন না বিএনপির এই নেতা।

নগর কমিটি বিভক্ত শুরু থেকেই। সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন দুটি গ্রুপে বিভক্ত। কর্মীরাও তাই। কমিটি গঠনের দিন থেকে তাদের মধ্যে যে বিরোধ তা এখনো চলছে। মুখে স্বীকার না করলেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে বুলবুল-মিলনের বাকবিত-া নজর কেড়েছে সবার। নগর নেতাদের অভিযোগ, বুলবুল সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল হতে শুরু করে। তিনি নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। মেয়র নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর সাংগঠনিক কাজে মন না দিয়ে বাড়িতে থেকেছেন বেশি। সংসদ নির্বাচনের পর আরও বেশি ঘরমুখো তিনি।

তবে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের দাবি, বিএনপি ঠিক পথেই আছে। তিনি দলকে সংগঠিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। বিএনপির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই।

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, তারা মাঠে নামলেই পুলিশ গ্রেফতার করছে, মামলা দিচ্ছে। এভাবে গণতন্ত্র চলে না। কর্মীদের মামলা থেকে বাঁচাতে কৌশলে তারা সাংগঠনিক তৎপরতা চালাচ্ছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর