শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৮

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

নীলফামারী হাসপাতালে ভবন বাড়ছে, সেবা বাড়ছে না

আবদুল বারী, নীলফামারী

বেহাল দশা নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের। ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে ১০০ শয্যার হাসপাতাল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবলে রয়েছে ঘাটতি। এরই মধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনটিও প্রস্তুত হয়েছে। সরঞ্জমাদি ঠিক না থাকা ও জনবল সংকটের কারণে দুই বছর ধরে তালা ঝুলছে কার্ডিওলজি বিভাগে। 

এভাবেই হ-য-ব-র-ল অবস্থায় চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে শুধু অবকাঠামোর উন্নতির কাজ চললেও স্বল্প জনবলের কারণে পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকলেও রয়েছে পর্যাপ্ত ওষুধ ও অবকাঠামোগত সব সুযোগ-সুবিধা। এদিকে চিকিৎসক সংকটের কারণে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। টিকিট মিললেও রোগীরা খুঁজে পান না চিকিৎসক। এভাবে হাসপাতালে এসেও চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় রোগীকে। আবার চিকিৎসকের দেখা মিললেও রোগীরা পান না পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা। পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের রাজিব হায়দার অভিযোগ করে বলেন, আমি তিন দিন ডাক্তার দেখাতে আসি কিন্তু ডাক্তার পাইনি। কলেজছাত্র রবিউল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে পরিচ্ছন্নকর্মী থাকার পরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে না। পর্যাপ্ত টয়লেট থাকলেও তা ব্যবহারের অনুপযোগী। এদিকে এই স্বল্প চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডেপুটেশনে আনা হয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে উভয় সংকট। তাদের তুলে আনায় পল্লী এলাকার রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নীলফামারী জেলার ১৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৮৫ সালে সাড়ে সাত একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় ৫০ শয্যার হাসপাতাল। পর্যায়ক্রমে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর দাবির মুখে ২০০৩ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রতিদিন বহির্বিভাগে পাঁচ শতাধিক রোগী আসেন চিকিৎসা নিতে। এদিকে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে পুরুষ, মহিলা, শিশু ও গাইনি ওয়ার্ডে গড়ে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন দেড় শ রোগী। শয্যা-স্বল্পতার কারণে প্রতিদিনই মেঝে থেকে শুরু করে বারান্দায় কষ্ট করে রোগীদের থাকতে হয়। একদিকে রোগের যন্ত্রণা অন্যদিকে অন্তর্বিভাগে উৎকট গন্ধ রোগীদের বিষিয়ে তুলেছে। এর পরও রোগমুক্ত হতে তারা এভাবেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। 

চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মণ জানালেন, ১শ শয্যার হাসপাতালে ২২ জন ডাক্তারের স্থলে রয়েছে ১৩ জন। এরই মধ্যে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ভবনটিও প্রস্তুত হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকট থাকলে এটিও চালু করা সম্ভব হবে না। এদিকে হৃদরোগ বিভাগটিও চালু হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬শ ও অভ্যন্তরীণ বিভাগে আড়াই থেকে ৩শ ও জরুরি বিভাগে প্রায় দেড় থেকে ২শ রোগী সেবা নিতে আসে।


আপনার মন্তব্য