Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:২২

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

দালালদের কাছে জিম্মি রোগীরা

বোয়ালমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর

দালালদের কাছে জিম্মি রোগীরা

হাসপাতালের গেটে ঢুকতেই এক নারীসহ দুই দালাল তাদের ঘিরে ধরেন। হাসপাতালে ডাক্তার নাই, ক্লিনিকে ভালো ডাক্তার আছেন বলে রোগী ভাগিয়ে নিতে ব্যস্ত তারা। কিন্তু দালালদের হাত থেকে রক্ষা পেতে দেখি বলে ভিতরে গিয়ে এক ঘণ্টা বসেও ডাক্তারের দেখা পাননি আগন্তুক। পরে বাধ্য হয়েই রোগীকে নিয়ে যান পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকে। বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এটি নিত্য ঘটনা। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে সেবা বলতে কিছুই নেই। দুর্গন্ধে ভিতরে ঢোকাই দায়। দালাল আর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে পুরো হাসপাতাল। স্থানীয় কয়েকটি ক্লিনিক মালিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী রোগীদের চিকিৎসাসেবা না দিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দেন। নামপ্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন স্টাফ নার্স জানান, জরুরি বিভাগে কোনো লোক নেই। অন্য বিভাগের লোক দিয়ে জরুরি বিভাগ চালানো হয়। যে তিনজন জরুরি বিভাগে কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, হাসপাতালটিতে খাবার পানির সমস্যা প্রকট। একটি মাত্র টিউবয়েল থাকলেও তা নষ্ট। ২০০৬ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও চিকিৎসাসেবার মান বাড়েনি। বর্তমানে হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীতের কাজ চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে ২১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে একজন ডেপুটেশনে। এ ছাড়া উপজেলার পাঁচটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে খরসুতির মেডিকেল অফিসার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এবং রূপপাতের মেডিকেল অফিসার মুগদা মেডিকেল কলেজে ডেপুটেশনে, বঙ্গেশ্বর্দী ও কাদিরদী উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদ শূন্য রয়েছে। ৬টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে সহকারী সার্জনের পদ শূন্য। সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় প্রসূতিদের। জনবল সংকটে আধুনিক অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘ দিন বন্ধ। প্রসূতিদের যেতে হচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে। সেখানে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেও পাওয়া যাচ্ছে না প্রকৃত স্বাস্থ্যসেবা। ২০০৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ৯ লাখ টাকা মূল্যের একটি আধুনিক এক্স-ওে মেশিন দেয়। যা ২০০৭ সালে জুলাই মাসের ১০ তারিখে স্থাপন করা হয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। আজ পর্যন্ত তা কক্ষবন্দী হয়ে আছে। অথচ বাধ্য হয়ে  রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করতে হচ্ছে। প্যাথলজি পরীক্ষার সুবিধা থাকলেও ডাক্তাররা রোগীদের টেস্ট করাতে পাঠিয়ে দেন পছন্দের প্যাথলজি সেন্টারগুলোতে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাপস বিশ্বাস জানান, প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও জনবল খুবই কম। অপরদিকে রোগীদের চাপ অনেক বেশি। ৫০ শয্যার হাসাপাতাল কিন্তু গড়ে ৮০  থেকে ১০০ রোগী ভর্তি থাকে প্রতিদিন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ রোগী দেখা হয়।

 


আপনার মন্তব্য