Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুলাই, ২০১৯ ২৩:০৮

বন্যায় তলিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা

প্রতিদিন ডেস্ক

বন্যায় তলিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মুহুরী নদীর ১২টি স্থানে বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পাশপাশি সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাটে বেড়েছে তিস্তা-ধরলার পানিও। সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- ফেনী : গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মুহুরী নদীর ১২টি স্থানে বাঁধ ভেঙে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার পর থেকে ফেনী-পরশুরাম সড়কের ফুলগাজী বাজার সড়কে হাঁটু পরিমাণে পানি থাকলেও গতকাল সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহির উদ্দিন জানান, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার মুহুরী নদীর ১২টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। মুহুরী নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে ভাঙা বাঁধগুলো সংস্কার করা হবে। এদিকে ভুক্তভোগীরা বলছেন, টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করার কারণে পাহাড়ি ঢলের চাপ হলেই এসব বাঁধ প্রতি বছর ভেঙে যায়। ফলে তাদের পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে ৯টার দিকে ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর পাঁচটি স্থানে ভাঙনে বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার জয়পুরের ঘনিয়া মোড়া নামক স্থানে, উত্তর শ্রীপুর গ্রামের পূর্বপাড়া, সাহাপাড়া গ্রামে দুটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে উপজেলার অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সুনামগঞ্জ : পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর ছিদ্দিকী ভূইয়া জানান, গতকাল সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবু বক্কর বলেন, লাগাতার বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমাসহ অন্যান্য নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব নদীর পানি জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুরের প্রায় শতাধিক গ্রামে ঢুকে পড়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

এদিকে ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের শক্তিয়ালখোলা এলাকায় পানি উঠে গেছে। এতে জেলা শহরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এ ছাড়া পানি উঠেছে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সড়কে বেশ কিছু জায়গায়। তবে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সদর উপজেলার লালপুর গ্রামের বেলাল উদ্দিন বলেন, মঙ্গলবার হঠাৎ করে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ে। রান্নাঘর, বাথরুম সব জায়গায় পানি প্রবেশ করায় আমরা পড়েছি মহাবিপদে। অধিকাংশ টিউবওয়েল পানিতে ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

লালমনিরহাট : ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে  নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদীর চরাঞ্চলগুলোতে বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সৃষ্ট বন্যায় প্রায় ৭ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গতকাল বিকাল ৪টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা দোয়ানী তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিস্তা ব্যারাজ দোয়ানী পয়েন্টে তিস্তা পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার। ব্যারাজ রক্ষার্থে ৪৪টি জলকপাট খুলে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জানা গেছে, তিন দিন ধরে ভারি বর্ষণের কারণে তিস্তা নদীর চর এলাকাগুলোতে লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চর এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

চট্টগ্রাম : টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। তিন দিন ধরে নগরের অধিকাংশ নিম্নাঞ্চলে পানি কখনো সামান্য সময়ের জন্য নামছে, কখনো বৃষ্টির পর আবারও পানি জমছে। ফলে জলাবদ্ধতার অসহনীয় দুর্ভোগ আর ভোগান্তি সঙ্গী করেই দিনাতিপাত করছেন নগরের নিম্নাঞ্চলের মানুষ। গতকালও নগরের অনেক এলাকা ছিল পানির নিচে।

তিন দিন ধরে জলাবদ্ধতায় পানি ওঠা বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কোথাও কোথাও পানি নেমে যায়। এসব এলাকার মানুষ বাসা বাড়ি পরিষ্কার করার পর ফের জলাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বারবার জলাবদ্ধতার কারণে অন্তহীন দুর্ভোগে সময় পার করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

রাঙামাটি : টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পার্বত্যাঞ্চলের জনজীবন। বাড়ছে পাহাড় ধস। আতঙ্কে ঘর ছাড়ছেন মানুষ। একই সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতাও থেমে নেই। কখনো হালকা, কখনো মাঝরি, আবার কখনো ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে মাটি সড়ে পাহাড়ে ঝুঁলে আছে শত শত বাড়ি ঘর। এসব অসহায় মানুষদের জন্য খোলা হয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র। বিপদগ্রস্তরা শুরু করেছেন আশ্রয় নিতে। এখন পর্যন্ত ২১টি আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ এসেছে প্রায় ১২ শতাধিক। তাদের তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

এ ছাড়া তাদের সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা। এখনো যারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছে তাদের জন্য সতর্কতা মাইকিং অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন। মানুষকে নিরাপদ স্থানে সড়িয়ে আনতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এলাকায় যাচ্ছে জেলা প্রশাসন।


আপনার মন্তব্য