Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২৮

কুমিল্লায় তিন পরিবহনের সংঘর্ষে নিহত ৮

সারা দেশে এক দিনেই নিহত ১৭, ঈদযাত্রায় ২০৩ দুর্ঘটনায় নিহত ২২৪

প্রতিদিন ডেস্ক

কুমিল্লায় তিন পরিবহনের সংঘর্ষে নিহত ৮

বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় গতকাল আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় বাস-সিএনজি ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এদিকে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, এবারও ঈদযাত্রায় সড়কে বেপরোয়া গতির কারণে যানবাহনগুলো ২২৪ জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে ২০৩টি। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো বিবরণ-

কুমিল্লা : কুমিল্লায় বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৬ জন, হোটেল বয় এবং সিএনজি চালকসহ ৮ নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বাসযাত্রীসহ ৫ জন। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই উপজেলার জামতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা ঈদের ছুটি শেষে কুমিল্লায় ফিরছিলেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঘোড়াময়দান গ্রামের মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে জসিম উদ্দিন (৪৫), জসিম উদ্দিনের মা সাকিনা বেগম (৭০), স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪০), ছেলে শিপন (২৩), ছেলে হৃদয় (১৫), মেয়ে নিপু আক্তার (১৩) ও হোটেল বয় একই গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে সায়মন (১৫)। এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক একই উপজেলার করপাতি গ্রামের মৃত জিতু মিয়ার ছেলে জামাল হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। জসিমের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য রিফাতকে (১০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

জসিম উদ্দিনের ভাই মো. মহসিন জানান, জসিম উদ্দিন, তার মা, স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়ে নিয়ে কুমিল্লা নগরীর গাংচরে থাকতেন। পাশের গোয়াল পট্টিতে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা করতেন। কোরবানির ঈদের ছুটিতে সপরিবারে বাড়িতে আসেন। ঈদের ছুটি শেষে সবাই মিলে সিএনজি অটোরিকশায় কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে আসে লাকসামগামী তিশা বাস সার্ভিস। লালমাই উপজেলার জামতলীতে এলে একটি মাইক্রোবাসকে বাঁচাতে গিয়ে লেন পরিবর্তন করে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এ সময় মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ফরিদপুর : ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মহাসড়কে মেরামতরত বাসের চালক মো. আলী হোসেন গাজী (৩৫) নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘাতক মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসটি আটক করেছে। নিহত আলী হোসেন খুলনা জেলার রূপসা থানাধীন তিলক গ্রামের মৃত আজিজ গাজীর ছেলে। স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া থেকে খুলনাগামী (ঢাকা মেট্রো-জ- ১১-১০৭১) গোয়ালন্দ উপজেলাধীন জমিদার ব্রিজ এলাকায় এলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় বাসের চালক আলী হোসেন বাসটি মেরামতের জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের একপাশে দাঁড় করিয়ে বাসের নিচে গিয়ে কাজ করতে থাকেন। এ সময় পেছন দিক থেকে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৯৬৩৮) মাইক্রোবাসটি দ্রুতগতিতে এসে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের নিচে থাকা বাসচালক চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া জানান, মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বাসের চালক আলী হোসেন গাজী মারা গেছেন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাস আটক করা হলেও মাইক্রোবাসের চালক পলাতক রয়েছেন। গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক বৃদ্ধসহ দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল দুপুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মুকসুদপুর উপজেলার রাগদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকায় ও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ মুকসুদপুর উপজেলার রাগদি ইউনিয়নের ডোমরাকান্দি এলাকার নূরুল মোড়ল (৭০) ও কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের তাহের শরীফের ছেলে হাবিব শরীফ (৪০)। ফরিদপুরের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানিয়েছেন, নূরুল মোড়ল বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সুগন্ধা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে নূরুল মোড়ল ঘটনাস্থলে নিহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। অপরদিকে, কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, হাবিব শরীফ মোটরসাইকেল চালিয়ে কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলটি রাতইল এলাকায় পৌঁছালে খুলনা থেকে ঢাকাগামী একটি বাসের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে চালক হাবিব শরীফ মারা যান এবং আরোহী এনায়েত হোসেন আহত হন। পরে স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহত এনায়েত হোসেনকে (৪৯) গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে অদক্ষ চালকের হাতে নতুন মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইব্রাহীম নামের এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছে। গতকাল সকালে পৌর শহরের জিবি রোডে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ইব্রাহীম স্থানীয় দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ও পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী আবুল খায়েরের ছেলে। নিহতের স্বজনরা জানান, প্রবাস ফেরত বাবার কাছে কলেজে পড়ুয়া ছেলে ইব্রাহীম মোটরসাইকেলের আবদার করে। ঠিকমতো গাড়ি চালাতে না পারলেও ছেলের আবদার রক্ষায় শনিবার বিকালে তাকে কিনে দেওয়া হয় একটি নতুন মোটরসাইকেল। ভোরে গাড়িটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় ইব্রাহীম। পরে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। সদর থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান মিয়া জানান, কলেজছাত্র অদক্ষ চালক ছিল। তাছাড়া হেলমেটবিহীন অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে মারা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর পর পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অসচেতনতাকে দায়ী করেন ওসি। বরিশাল : বরিশালের গৌরনদীতে পথচারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে এক আরোহী স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ও এক আরোহী এবং পথচারী নারীসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল আরোহী লিমন মুন্সী (১৬) একই উপজেলার খাঞ্জাপুর পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্র ও ভূরঘাটা গ্রামের নুরুল ইসলাম মুন্সীর ছেলে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি শেখ আতিয়ার রহমান জানান, পাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র লিমন মুন্সী ও তার সহপাঠী লিখন মুন্সী (১৫) শনিবার রাতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক রিফাত হাওলাদারের (১৬) মোটরসাইকেলে গৌরনদী থেকে নিজ বাড়ি ফিরছিল।  পথিমধ্যে রাত ৯টার দিকে সুন্দরদী এলাকা অতিক্রমকালে পথচারী খাদিজা বেগমকে (৫০) ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে আছড়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী ওই ৩ জন এবং পথচারী নারীসহ ৪ জন আহত হন।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় লিমন মুন্সী, লিখন মুন্সী ও রিফাত হাওলাদার এবং পথচারী খাদিজা বেগমকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওইদিন রাত ১১টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লিমন মুন্সীর মৃত্যু হয়।

রংপুর : রংপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ২ জন। পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে নগরীর টার্মিনাল মোড়ে একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোচালকসহ ৬ জন গুরুতর আহত হন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মোকছেদুল ইসলাম (৩৬) নামের অটোচালক মারা যান। তার বাড়ি বদরগঞ্জের কুতুবপুরে। অন্যদিকে পীরগঞ্জের ফিডার রোড থেকে মহাসড়কে ওঠার সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় ট্রাক। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী আবদুল হানিফ (২৮) নামের এক যুবক মারা যান। ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ফুলপুরে গতকাল পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কে ফুলপুর উপজেলার হোসেনপুর মোড়ল বাড়ি নামক স্থানে দুপুরে ঢাকা থেকে শেরপুরগামী সোনার বাংলা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে নালিতাবাড়ী থেকে ফুলপুরগামী একটি সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সায়েম (১৫) নামে এক কিশোর মারা যায়। সে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পলাশিয়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। এ ছাড়া নিহত সায়েমের বাবা দুদু মিয়া (৪৫), মা মনিরা বেগম (৪০), বোন মাফিয়া (৫), গড়কান্দা গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০) ও সুনীল সাহা (৪৫) গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে একই দিন সকালে ফুলপুর থেকে ঢাকাগামী একটি নোয়া গাড়ি ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়কে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছার পর চাকা পাংচার হয়ে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার বাম পাশের পথচারী রেজিয়া (৫০) ও রিকশাচালক আনুর ওপর তার গাড়িটি উঠিয়ে দেন। পরে তাদের উদ্ধার করে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আনুকে ভর্তি রেখে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত রেজিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে রেজিয়া মারা যান। তিনি উপজেলার পাতিলগাঁও গ্রামের মৃত আবদুর রশিদের স্ত্রী আর আনু দিউ গ্রামের রিকশাচালক জামাল উদ্দিনের ছেলে। ঈদযাত্রায় ২২৪ জন নিহত : এবারের ঈদুল আজহায় যাতায়াতে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ২৪৪টি দুর্ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের উপদেষ্টা বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল ও কনসাস কনজুমার্স  সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন। মোজাম্মেল হক বলেন, বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো, নৌ-পথে বেশকিছু নতুন লঞ্চ যুক্ত হয়েছে। রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন বগি সংযুক্ত হলেও এবারের ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথে শিডিউল বিপর্যয় ও টিকিট কালোবাজারি, ফেরি পারাপারে ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রী হয়রানি বেড়েছে। তিনি বলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও  হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাথ না থাকা, ঈদফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকা বা মনিটরিং শিথিলতা, মোটরসাইকেলে দূরপথে ঈদযাত্রা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর