Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:৪১

মহানৈরাজ্য, চালকদের আইনের ভয় নেই

-সৈয়দ আবুল মকসুদ

মহানৈরাজ্য, চালকদের আইনের ভয় নেই

যান চালকদের আইনের ভয় নেই- উল্লেখ করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাওয়া বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, সড়কে মহানৈরাজ্য চলছে।

তিনি বলেন, এর জন্য সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক, চালক- সবাই দায়ী। তবে মূল দায় সরকারকেই নিতে হবে। কারণ, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধের দায়িত্ব সরকারের বিভিন্ন সংস্থার। কেউ কোনো দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। দায়িত্ব পালন না করার কারণে কারও শাস্তিও হয়নি। পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সরকারের লোকজন জড়িত থাকায় চালকদের মধ্যে আইনের ভয় নেই। দুর্ঘটনা ঘটালেও শাস্তি হয় না। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অসংখ্যবার আমরা সুপারিশ দিয়েছি। কোনোটা বাস্তবায়ন হয়নি। আর তাই এ সংকট থেকে আশু মুক্তির সম্ভাবনা দেখছি না। গতকাল মুঠোফোনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আরও বলেন, ৪০ ভাগ চালকের লাইসেন্স নেই। হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে রাস্তায়। কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কতজন কারাগারে আছে? কতজনের শাস্তি হয়েছে? সবকিছুর পেছনে রয়েছে দুর্নীতি। দুর্ঘটনা ঘটলে সংবাদমাধ্যমে লেখালেখি হয়। কর্তৃপক্ষ তখন খুব তৎপরতা দেখায়। পরে আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। পৃথিবীর কোনো দেশে পরিবহন ব্যবস্থার এমন বিশৃঙ্খল অবস্থা নেই। আমরা চিৎকার করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সড়কে নৈরাজ্য এমন পর্যায়ে গেছে যে, কেউ কারও কথা শুনছে না। চালক ট্রাফিক আইন মানছেন না, সরকার যথাযথ আইন প্রয়োগ করছে না, জনগণের মধ্যেও সচেতনতা ও মৃত্যুভয় নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে রাস্তায়। লাইসেন্স ছাড়াই চালক গাড়ি চালাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে অনেক কমিটি হয়েছে। আমিও অনেক কমিটির সদস্য। গত তিন-চার বছরে অনেকবার সুপারিশ দিয়েছি। কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। সবার আগে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তি না দিলে কেউ ভয় পাবে না। তিনি বলেন, ১০-১২ বছর ধরে সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি। কিন্তু, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বজ্ঞানের লেশমাত্র নেই। একজন চালকের হাতে শত মানুষের জীবন, সেটা তার মাথায়ই থাকে না। এমনকি নিজের জীবনের মায়াও তাদের নেই। একজন মানুষের মৃত্যু মানে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাওয়া। মালিকদের অতি লোভের কারণে চালকরা রাস্তায় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছে। চালকের লাইসেন্স আছে কিনা- তা না দেখেই গাড়ি চালাতে দেওয়া হচ্ছে। এই সেক্টরে যেন কোনো আইনই নেই। পরিবহন ব্যবসার সঙ্গে সরকারের লোকজন জড়িত থাকায় আইন তাদের ধারে-কাছে যায় না। এ কারণে সড়ক নিরাপত্তার বৈঠকে জাঁদরেল মন্ত্রীরাও মালিক-শ্রমিকদের সামনে মিনমিন করে কথা বলেন। আইনের প্রয়োগ হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যেত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর