শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৩৭

মহেশখালী ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনা

বন্দরের চার্জ মওকুফ চায় সামিট ও ইইবিএল

রুকনুজ্জামান অঞ্জন

বন্দরের চার্জ মওকুফ চায় সামিট ও ইইবিএল

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কাছে সব ধরনের চার্জ মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল ও এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) নামে দুটি কোম্পানি। সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ৫০০ এমএমএসসিএফডি (মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট পার ডে) ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি করেছে ওই দুটি কোম্পানি। মহেশখালী গভীর সমুদ্রে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিকে গত ২৪ জানুয়ারি গেজেট নোটিফিকেশন জারির মাধ্যমে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ কারণে এই টার্মিনালে এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজগুলোকে নির্ধারিত চার্জ দিতে হবে বন্দর কর্তৃপক্ষকে। জানা গেছে, কাতার এবং ওমান থেকে প্রতি মাসে ৬টি জাহাজ ভরে এলএনজি আনা হবে মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালে। আর বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী আনুমানিক ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে চার্জ বাবদ। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার জন্য টার্মিনাল কোম্পানি কর্তৃক ডেডিকেটেড পোর্ট সার্ভিস ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ফলে অন্যান্য কনটেইনারবাহী জাহাজের মতো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে টাগবোট গ্রহণ, বার্থিং, আন-বার্থিংসহ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের প্রয়োজন হবে না। এ কারণে বন্দরের চার্জ মওকুফ করা দরকার। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাসমান টার্মিনালে আসা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পোর্ট ডিউস এবং রিভার ডিউসসহ চবক থেকে যেসব সেবা গ্রহণ করা হবে, শুধু সেসব সেবার অনুকূলে চার্জ বা ফি আদায় হবে। চবক কর্মকর্তারা জানান, জাহাজ খাতে প্রযোজ্য এই মাশুল ‘কস্ট বেইসড’ ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়ায় তা মওকুফের ক্ষমতা বন্দর কর্র্তৃপক্ষের নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের হাতে। নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজ সকালেই (গতকাল) আমরা সভা করেছি। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বলেছে, আমদানিকৃত এলএনজির ওপর বন্দরের চার্জ আরোপ হলে সেটি ভোক্তা পর্যায়ে দামের ক্ষেত্রে প্রভাব  ফেলবে। এ কারণে আমরা চার্জের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এক্ষেত্রে যে জাহাজগুলো এলএনজি আমদানি করবে সেগুলোকে বাংলাদেশে নিবন্ধন গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।  দেশে রেজিস্টার্ড জাহাজ হলে বন্দরের চার্জ ছাড়ের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে নাবিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। এতে আমাদের দেশের নাবিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। 

মহেশখালীতে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটি পরিচালনার জন্য ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পেট্রোবাংলার সঙ্গে চুক্তি করে ইইবিএল। গত বছরের আগস্ট থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে কোম্পানিটি। চুক্তি অনুযায়ী ১৫ বছর গ্যাস সরবরাহ করবে কোম্পানিটি। এরপর কোনো ধরনের চার্জ ছাড়াই পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করবে টার্মিনাল। অন্যদিকে সামিট এলএনজি টার্মিনাল চুক্তি করে ২০১৭ সালে। বর্তমানে সামিট ও ইইবিএল থেকে যৌথভাবে ৬০০ এমএমসিএফ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য