শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৬

কেমন আছেন সাভারবাসী ৩

গাবতলী-নবীনগর হচ্ছে ৮ লেন মহাসড়ক

দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন ৪০ লাখ বাসিন্দা

মোস্তফা কাজল, সাভার থেকে ফিরে

গাবতলী-নবীনগর হচ্ছে ৮ লেন মহাসড়ক

পিপিপির ভিত্তিতে গাবতলী থেকে সাভারের নবীনগর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার মহাসড়ক ৮ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। পরবর্তীতে এ মহাসড়কটি সম্প্রসারণ করে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত নেওয়া হবে। সব মিলে অচিরেই দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা থেকে ৪০ লাখ সাভারবাসী মুক্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, প্রতিবছর ঈদ এলেই ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কের নানা স্থানে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে গাবতলী থেকে সাভারের নবীনগর পর্যন্ত মহাসড়কের সব ধরনের যানবাহন থমকে থাকে। এ স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হয়। ফলে প্রতিদিন সাভার থেকে ঢাকাগামী হাজার হাজার চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কের ধারণক্ষমতার তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শুধু ঈদ নয়, ছুটির দিনের আগে-পরেও যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য গাবতলী থেকে নবীনগর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক ৮ লেনে উন্নীত করে এক্সপ্রেসওয়ে করার পরিকল্পনা করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এক্সপ্রেসওয়েটি বাস্তবায়নের জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকারের ক্রয়-সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটি। এখন সমীক্ষা কাজের প্রক্রিয়া চলছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, শিগগিরই সমীক্ষার কাজ শুরু হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৮ লেনের এ সড়ক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে। ৮ লেনের মধ্যে মাঝের ৬ লেনে হবে অ্যাকসেস কন্ট্রোল (এক্সপ্রেসওয়ে)। দুই পাশে থাকবে একটি করে সার্ভিস লেন। এক্সপ্রেসওয়েতে চলার জন্য টোল দিতে হবে। আর এই টোল আদায়ের মাধ্যমে নির্মাণ ব্যয় তুলে নেবে নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সূত্র আরও জানায়, ৬ লেনের এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যান চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে র‌্যাম্প থাকবে। যেগুলো দিয়ে প্রয়োজন মতো যানবাহনগুলো এক্সপ্রেসওয়ে থেকে বের হয়ে যেতে পারবে। গাবতলী, হেমায়েতপুর, সাভার ও নবীনগরের ইন্টারচেঞ্জগুলোয় নির্মাণ করা হবে ফ্লাইওভার। বিভিন্ন পয়েন্টে পথচারী ও যানবাহন পারাপারের জন্য নির্মাণ করা হবে ছয়টি আন্ডারপাস। অন্যদিকে ধীরগতির যানবাহনসহ যেসব বাহনের এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না সেগুলো চলাচল করবে দুই পাশের সার্ভিস লেন দিয়ে। সড়ক বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সোহরাব হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কটি চার লেনে প্রশস্ত। যানজটের কারণে স্বাভাবিক সময়ে গাবতলী থেকে নবীনগর পর্যন্ত যেতে ১ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। ঈদ বা টানা একাধিক দিনের ছুটিতে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লে যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ২২ কিলোমিটার পার হতেই লেগে যায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। এমতাবস্থায় সড়কটি ৮ লেন হলে যানজট পরিস্থিতি অনেকটাই কমে আসবে। এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে মাত্র ২০ মিনিটেই গাবতলী থেকে নবীনগর যাওয়া যাবে।  গাবতলী-নবীনগর এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুস সবুর বলেন, প্রকল্পটির সমীক্ষা কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর