শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫১

তিন ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে

ড. আইনুন নিশাত

তিন ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেছেন, সুন্দরবন রক্ষায় স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি এই তিন ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অংশের কিছু অংশে জঙ্গল কেটে মানুষ সুন্দরবনের ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এটি কোনোভাবেই হতে দেওয়া যাবে না। ঝড়ে সুন্দরবনের কোনো গাছের ডাল ভেঙে গেলে ডালটিকে সেভাবেই রেখে দিতে হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ব্যবহারেও পরিবর্তন আনা জরুরি। গতকাল টেলিফোনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আইনুন নিশাত বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবন রক্ষার জন্য সে এলাকায় মিঠাপানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। এক সময় গঙ্গার বিভিন্ন শাখা নদী যেমন-মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতিসহ বিভিন্ন নদী থেকে দেশের দক্ষিণে পানি যেত। কিন্তু ফারাক্কা বাঁধের কারণে সেই পানি যাওয়া বন্ধ হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে এই নদীগুলোর অনেক দখল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এই নদীগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে গঙ্গা থেকে পানি এনে এসব নদীকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যদিও দেশের জাতীয় পানি পরিকল্পনায় গঙ্গায় ব্যারেজ দিয়ে এসব নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন এলাকার নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বনের সুন্দরী গাছগুলো ক্রমেই মরে যেতে শুরু করেছে যা আশঙ্কার বিষয়। এই জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বলেন, দেশ বিভাগের আগে ব্রিটিশরা সুন্দরবনের একটি অংশকে রিজার্ভ করে দেয়। বাংলাদেশে সুন্দরবন এখনো বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভারতে সুন্দরবনের অর্ধেকের বেশি দখল হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশেরও কিছু অংশে জঙ্গল কেটে মানুষ বনের ভিতরে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এটি কোনো কারণেই হতে দেওয়া যাবে না। বন বিভাগকে যেভাবেই হোক সুন্দরবনকে দখলকারীদের হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

আইনুন নিশাত বলেন, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুন্দরবনে কোন ধরনের গাছ নিজে নিজেই ভালোভাবে টিকে থাকে তা চিহ্নিত করতে হবে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই গাছগুলো নিয়ে প্রয়োজনে গবেষণা করতে হবে।

একই সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে এই ধরনের গাছপালাগুলো যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বহিরাগত কেউ বনে ঢুকে এই গাছগুলোর যেন ক্ষতি না করে। ঝড়ে সুন্দরবনের কোনো গাছের ডাল ভেঙে গেলে সামান্য কিছু টাকার লোভে সেই ভাঙা ডাল বিক্রি না করে বরং ডালটিকে সেভাবেই রেখে দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুন্দরবনে গাছ কাটা রোধ করতে হবে। সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী সুন্দরবনে গাছ কাটার ব্যাপারে নিষেধাঙ্গা আছে। তবে গোলপাতা কাটা যায়। কিন্তু এই গোলপাতা গাছগুলো ‘হারভেস্ট’ করা যায় কিনা তা ভাবা যেতে পারে। তবে সুন্দরবনের দক্ষিণাংশের কোনো যত্ন নেওয়া হচ্ছে না। এই অংশটি অবহেলায় পড়ে আছে এবং তা প্রকৃতির ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার বনের সব মধু আহরণ না করে এক-তৃতীয়াংশ মধু বনেই রেখে দিতে হবে। সুন্দরবনে যাতায়াতকারী জেলেদের সংখ্যাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা প্রায়ই বনে প্লাস্টিকের বোতল ও চিপসের প্যাকেট ইত্যাদি ফেলে বনের পরিবেশ নষ্ট করছে। কেউ কেউ মাইক ব্যবহার করে শব্দ দূষণ ঘটায়। পর্যটকদের এটি বুঝতে হবে যে সুন্দরবন কোনো পিকনিক স্পষ্ট নয়। আর যে পর্যটক এভাবে সুন্দরবনের পরিবেশ দূষণ করে তাদের এবং তাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।


আপনার মন্তব্য