শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৩

ঘূর্ণিঝড়ে ১০৭ বছরের রেকর্ড ভাঙল

কৃষকের মাথায় হাত

প্রতিদিন ডেস্ক

কৃষকের মাথায় হাত

২০১৫ সালে মোট ১২টি নিম্নচাপ তৈরি হয়, যার মধ্যে মাত্র ৪টি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছিল। ২০১৮ সালে নিম্নচাপ তৈরি হয় ১৪টি, এর অর্ধেক পরিণত হয়েছিল ঘূর্ণিঝড়ে। এদিকে ২০১৯ সালে মোট ৯টি নিম্নচাপ তৈরি হয়, এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৭টি পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে। এর ফলে নিম্নচাপ থেকে ঘূর্ণিঝড় পরিণত হওয়ার হারের নিরিখে বিগত বেশ কয়েক বছরকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ২০১৯ সাল। সাধারণত আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগরে বেশি নিম্নচাপ তৈরি হয়। কিন্তু এ বছর উল্লেখযোগ্যভাবে সংখ্যাটি আরব সাগরের ক্ষেত্রে বেশি। কয়েক দিন আগেই ঘূর্ণিঝড় কিয়ার ও মাহার সৃষ্টি হয় আরব সাগরে। এর আগে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয় ফণী ও পাবুক। আর কয়েক দিন আগেই তা-ব চালায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শেষবার আরব সাগরে একই বছরে চারটি ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছিল ১৯০২ সালে। ২০১৯-এর দেড় মাস বাকি থাকতেই সেই সংখ্যা ছোঁয়া হয়ে গেছে। ডিসেম্বরের আগে আরও ঘূর্ণিঝড় হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এমন শঙ্কা সত্যি হলে ভেঙে যেতে পারে ১০৭ বছরের রেকর্ড।

বুলবুলে কৃষিতে বেশি ক্ষতি পটুয়াখালী ও ভোলায় :  ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের’ আঘাতে বরিশাল বিভাগে ১ লাখ ৭১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ২৭ হেক্টর জমির শীতকালীন সবজি, ১ হাজার ৮৬৮ হেক্টর জমির খেসারি, ৬১৬ হেক্টর জমির পানের বরজ, ৩৯৮ হেক্টর জমির কলাগাছ ও ৪০৩ হেক্টর জমির পেঁপে গাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানে ক্লাস, বার্ষিক পরীক্ষা ও আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায়। এছাড়া বিভাগের অন্যান্য জেলায়ও কৃষি এবং অবকাঠামোর কমবেশি ক্ষতি হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে শীতের সবজির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। খবর, সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায়। ভোলায় ৫৩ হাজার ৭৮৩ হেক্টর জমির ধান, ৭৪২ হেক্টর জমির সবজি, ৫১৮ হেক্টর জমির খেসারি, ৫৪ হেক্টর জমির পানবরজ এবং পটুয়াখালীতে ৫৫ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমির ধান, ১৮০ হেক্টর জমির সবজি এবং বিস্তীর্ণ জমির খেসারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বরিশাল জেলায় ৬২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ধান, ৯৮০ হেক্টর জমির সবজি, ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির খেসারি, ৭০ হেক্টর জমির কলাগাছ, ৭১ হেক্টর জমির পেঁপে এবং ৫৩৬ হেক্টর জমির পানবরজ ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের প্রণোদনা কার্যক্রম চলছে। চাষিদের মাঠে ধরে রাখতে ও চাষাবাদে উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রণোদোনা কার্যক্রমের মধ্যে এবার যারা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এদিকে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলায় ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন এবং অর্থ সহায়তা দিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৭টি পরিবারকে ঢেউটিন এবং অর্থ সহায়তা ছাড়াও দুই উপজেলায় ৪০০ মানুষের মাঝে শুকনা খাবার প্যাকেট বিতরণ করা হয়। একইভাবে হিজলায় ১২টি পরিবারকে ২ বান্ডিল করে ঢেউটিন ও ১২ হাজার টাকা এবং ২০০ মানুষের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর