শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৭

চা উৎপাদনে ভঙ্গ হতে চলেছে ১৬৬ বছরের রেকর্ড

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

চা উৎপাদনে ভঙ্গ হতে চলেছে ১৬৬ বছরের রেকর্ড

চা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প। দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বহু দশক ধরে। গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদনও বেড়ে চলেছে চায়ের। চলতি মৌসুমে (নভেম্বর মাস পর্যন্ত) দেশের বাগানগুলোতে উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণ চা। এর পরিমাণ সাড়ে ৮ কোটি কেজি। বছর শেষে উৎপাদনের পরিমাণ ৯ কোটি কেজিতে গিয়ে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্য দিয়ে দেশে চা উৎপাদনের ১৬৬ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে।  অনুকূল আবহাওয়া, সঠিক সময়ে উৎপাদন কাজ শুরু, অনাবাদি জমিতে চাষ প্রভৃতি কারণে এবার দেশে চা উৎপাদনে রেকর্ড হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, বাংলাদেশে ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়ায় সর্বপ্রথম চা-বাগান গড়ে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চা চাষ শুরু হয়। এ হিসেবে দেশে চা-শিল্পের ইতিহাস প্রায় ১৬৬ বছরের। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ২০১৬ সালে দেশে চা উৎপাদিত হয়েছিল সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ কোটি কেজি। এবার চায়ের উৎপাদন ইতিমধ্যে সেই রেকর্ড ছুঁয়ে সামনে এগিয়ে গেছে। বছর শেষ হলে এবার চায়ের উৎপাদ প্রায় ৯ কোটি কেজিতে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে জিডিপিতে চায়ের অবদান দশমিক ৮১ শতাংশ। দেশে বর্তমানে চায়ের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে।

চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৬৬টি চা-বাগান আছে। এর মধ্যে সিংহভাগই সিলেট বিভাগের মধ্যে। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় ৯১টি, হবিগঞ্জে ২৫টি ও সিলেট জেলায় আছে ১৯টি চা-বাগান। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে ৭টি, রাঙামাটিতে ২টি ও ঠাকুরগাঁওয়ে ১টি চা-বাগান রয়েছে। চা-বাগান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার দেশে চায়ের জন্য আদর্শ আবহাওয়া ছিল। ছিল পরিমিত বৃষ্টি ও পরিমিত রোদ। বাগানে সঠিক সময়ে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এ ছাড়া এ বছর বেশকিছু অনাবাদি জমিতে চা চাষ করা হয়। এসব মিলিয়ে চা উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল টি কমিটি’ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন নবম। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দশম। এ বছর উৎপাদনে এক ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। সংস্থাটির হিসাবে চা উৎপাদনে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে চীন ও ভারত।

বাংলাদেশ চা সংসদের (সিলেট বিভাগ) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ শিবলী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ বছর পরিমিত বৃষ্টি ও পরিমিত রোদ ছিল। বছরজুড়ে চা উৎপাদনের জন্য ছিল চমৎকার আবহাওয়া। চাষিরা পুরনো বাগানে নতুন করে চা আবাদ করেছেন। অনাবাদি জমিতেও হয়েছে চা চাষ। সব মিলিয়ে দেশে এবার চা উৎপাদন আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ ভাগ বেশি হয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ বছর শেষে ৯ কোটি কেজিতে পৌঁছাবে, যা দেশে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে।’ শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক গৌতম দেব বলেন, উপযুক্ত আবহাওয়া চা উৎপাদনের অন্যতম শর্ত। এর সঙ্গে এবার চা বোর্ডের কিছু সঠিক পদক্ষেপও উৎপাদন বেশি হতে সাহায্য করেছে। চা-শিল্পের বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে চায়ের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে চা-বাগানের নামে নেওয়া জমির লিজের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, কম মূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া চা-শিল্পের সঙ্গে যেসব শ্রমিক জড়িত, তাদের জীবনমানের উন্নয়নে নজর দিলে দেশ চা উৎপাদনে আরও অনেক অগ্রসর হতে পারবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর