শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০২

নুজহাত পূর্ণতার একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী

ফ্রেমে ফ্রেমে জীবনের গল্প

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

ফ্রেমে ফ্রেমে জীবনের গল্প

হাজারও শব্দের চেয়ে একটি ছবির শক্তি অনেক বেশি। স্থির থেকেও যেন বলে দেয়, না বলা অনেক কথা, তুলে ধরে জীবনের নানা গল্প। ক্যামেরার ক্লিকের আলোর ঝলকানিতে ফ্রেমে ফ্রেমে উঠে আসে জীবনের নানা রং। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুয়েটসের মেধাবী শিক্ষার্থী নুজহাত পূর্ণতাও নিজের মনন ও মেধাকে ফ্রেমে বন্দী করে শুধু সৃজনশীলতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটাননি, তুলে ধরেছেন প্রকৃতি, প্রাণী, মানুষ ও দেশের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা। ক্যামেরার ফ্রেমের শৈল্পিকতায় বলতে চেয়েছেন জীবনের গল্প। এমন সব ছবি নিয়েই রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে নুজহাত পূর্ণতার দুই দিনের প্রথম একক প্রদর্শনী। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর যাপিত জীবনের গল্প ও আন্তর্জাতিক পরিম-লের বর্ণিল অধ্যায়ের ৫০টি ছবি স্থান পেয়েছে এ প্রদর্শনীতে। আলোকচিত্রে তিনি তুলে ধরেছেন প্রকৃতি, প্রেম, বৈচিত্র্যময় মানবজীবনের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না। ভিন্ন ভিন্ন আলোকচিত্রে জীবনকে কখনো ধূসর, আবার কখনো রঙিন করে উপস্থাপন করেছেন এই আলোকচিত্রী। শৈল্পিক উৎকর্ষে প্রতিটি ছবিতেই একটি একটি গল্প তুলে ধরেছেন নুজহাত পূর্ণতা। মুনশিয়ানা ও রুচিবোধ তুলে ধরেছেন ফ্রেমে ফ্রেমে। গতকাল বিকালে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার গ্যালারি ৬-এ ‘ইন বিটুয়েন বর্ডারস অ্যান্ড আদার পলিটিক্যাল কনস্ট্রাক্টস’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, কালের কণ্ঠ সম্পাদক কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক এবং নিউজ টোয়েন্টিফোর ও রেডিও ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী নঈম নিজাম ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। উদ্বোধন শেষে প্রদর্শনীর গ্যালারি ঘুরে দেখেন অতিথিরা। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমি প্রথমেই আলোকচিত্রী নুজহাত পূর্ণতাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি তার আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখে অভিভূত ও আনন্দিত। প্রদর্শনীর আলোকচিত্রগুলো আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে। নুজহাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরেছে। ওর যা ভালো লেগেছে, তার ছবি তুলেছে। আমি ওর জন্য দোয়া করি, যেন ও আরও বড় হয়। ওর জন্য অনেক স্নেহ, আদর ও ভালোবাসা।’ রুবানা হক বলেন, ‘পূর্ণতাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। এ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে ও পূর্ণ হয়েছে। ছোট-বড় অনেক ছবি রয়েছে। বড় ছবিগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে। ছবিগুলো অনবদ্য।’ তিনি বলেন, ‘ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরেছে। ওর যা মন চায়, সেটার ছবি তুলেছে। কিন্তু সে বাংলাদেশকে ভোলেনি। সে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়েছে। সেখানকার মানুষের পোর্ট্রেট তুলেছে। যাতে ও নিজের সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছে।’ ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘ওকে আমি দীর্ঘদিন ধরে চিনি। ও নানা কাজের ফাঁকে ফাঁকে এত বড় একটা কাজ করেছে। যাতে ওর শিল্পপ্রেমী দৃষ্টিভঙ্গি আরও ভালো লেগেছে। ভবিষ্যতে ও আরও অনেক কাজ করবে। যাতে দেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।’ প্রদর্শনীর আলোকচিত্রগুলোকে দ্ইু ভাগে বিভক্ত করেছেন নুজহাত পূর্ণতা। এর মধ্যে ‘নেমলেস ফেসেস অ্যাট বালুখালী ক্যাম্প’ শিরোনামের বিভাগটি সাজিয়েছেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত মানুষের ছবি দিয়ে, আর ‘ফ্রম অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ বিভাগে যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, ফ্রান্স, মেক্সিকো ও বাহামা দ্বীপপুঞ্জের মানুষের যাপিত জীবনকে ধারণ করেছেন তিনি। ‘নেমলেস ফেসেস অ্যাট বালুখালী ক্যাম্প’ বিভাগের প্রতিটি ছবিই হৃদয়কে আর্দ্র করে তুলবে। বাঁশ ধরে নির্বাক শিশুর তাকিয়ে থাকা যেমন মন খারাপ করে দেবে, অন্যদিকে বাচ্চা মেয়ের হাসিমুখ মন ভালো করে দিতে বাধ্য। আবার ‘ফ্রম অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ বিভাগের ছবিগুলোও অসাধারণ। কুকুর কোলে নিয়ে তরুণীর হাসি, বন্ধুদের আড্ডা, বসন্তের পড়ন্ত বিকালের ঝরাপাতা, গাছের তলায় বসে বই পড়া- সবকিছুই দর্শককে নিয়ে যাবে ছবি তোলার স্থানে। অনুভূতি প্রকাশে নুজহাত পূর্ণতা বলেন, ‘মানুষকে মানুষের সঙ্গে আলাদা করেছে সীমান্ত; যা মানুষেরই তৈরি। কিন্তু সীমান্তের দুই পাড়ের মানুষই ভালোবাসা দিতে ও নিতে চায়। এ বিষয়গুলোই ছবির মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছি।’ রোহিঙ্গা শিবিরের ছবিগুলো নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে সানন্দে আমাদের দেশে বরণ করেছি। কিন্তু এখন তারা আমাদের জন্য বোঝা। ওরা কিন্তু দেখতে আমাদের মতোই। এ কারণে রোহিঙ্গা শিবিরের ছবিগুলো আমি পোর্ট্রেট মুডে তুলেছি।’ আজ শেষ হবে দুই দিনের এ প্রদর্শনী।


আপনার মন্তব্য