শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:২২

সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ

মানি লন্ডারিং মামলা

মাহবুব মমতাজী

শুধু মানি লন্ডারিং মামলা থেকেই সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে জমা রাখা হয়েছে। গত এক বছরে ক্যাসিনো সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং মামলা থেকে জব্দ হয়েছে ৩৩১ কোটি ৬ লাখ টাকা। আর অন্য মানি লন্ডারিং মামলা থেকে জব্দ হয়েছে ৫০ কোটি ৭ লাখ টাকা। সিআইডিতে মানি লন্ডারিং আইনে মোট মামলা হয়েছে ১৯৯টি। এতে আসামির সংখ্যা ২৫৫ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন ১০৩ জন।

২০১৫ সালের পর জালিয়াতি ও অর্থ লেনদেনে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। তবে মামলার তদন্তে দেখা গেছে ধীরগতি। এখন পর্যন্ত মামলার অভিযোগপত্র জমা পড়েছে ৭২টি। তথ্যগত ভুলে ২৩টি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১০৪টি মামলার তদন্ত চলছে সিআইডিতে।

জনবল ও প্রয়োজনীয় ইন্সট্রুমেন্টের অভাবে যথাসময়ে তদন্ত সম্পন্ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। 

তবে সিআইডির ডিআইজি (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) ইমতিয়াজ আহমেদ এ প্রতিবেদককে জানান, আইনটি হওয়ার ৭ বছর পর বিধিমালা হয়েছে। বিধিমালা না থাকার কারণে তদন্তে সেভাবে গতি পায়নি। গত বছরের মার্চে আইনটির বিধিমালা হয়। এরপর মানি লন্ডারিং মামলাগুলোর তদন্ত সঠিক সময়ে সম্পন্ন করা শুরু হয়।  সূত্র জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলা আগে তদন্ত করত শুধু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত নয়, মামলা দেখাশোনাও করত দুদক। তবে ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশের পর থেকে দুদকসহ পাঁচটি সংস্থা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায়। দুদক ছাড়া অপর চারটি সংস্থা হলো- পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। ২৭টি প্রেডিকেট অফেন্সের ২৪টির তদন্তের ক্ষমতা সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। ১৮টির একক তদন্তের ক্ষমতা রয়েছে সংস্থাটির, আর বাকি ৬টি অন্য সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করতে পারবে।   

সিআইডির অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্ত ইউনিট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থনৈতিক অপরাধের ২৬টি মামলা সিআইডির অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে আসে। এর মধ্যে দুদকের হাত ঘুরে আসে ১৬টি, যদিও মামলাগুলো ২০১২ ও ২০১৩ সালে দায়ের করা। আর অর্থনৈতিক অপরাধ-সংক্রান্ত বাকি ১০টি মামলা আসে দেশের বিভিন্ন থানা হয়ে। ২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট কক্সবাজারের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত শেষে ৪৩ জন মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তদন্তকালে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইয়াবা বিক্রির সাড়ে ৬ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পায় তদন্ত কর্মকর্তারা। মাদক বিক্রির টাকায় কেনা ২৬৮.০৯ শতক জমি ও দুটি বিলাসবহুল বাড়ি আদালতের অনুমতিতে জব্দ করে রিসিভার নিয়োগ করা হয়। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর টেরাকোটা রপ্তানির নামে জাল ও ভুয়া এলসির মাধ্যমে ২৩৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা হয়। মামলার মূল আসামি সালাউদ্দিন বাবলু। তদন্তকালে ১০৮টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। আসামিদের ৬টি গাড়ি, ৫ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট এবং ৭ কাঠা জমি জব্দ করা হয়। ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট ম্যাগনেটিক রাইস কয়েনের প্রতারণার মামলা হয়। এ মামলায় অভিযুক্তদের ৫০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। তাদের অ্যাকাউন্টের ৫ কোটি টাকা, নগদ ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা, দুটি গাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই ভুয়া কোম্পানি খুলে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা হয়। প্রতারণার মাধ্যমে ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ১৪ জনকে গ্রেফতার করে সংস্থাটি। এদের কাছ থেকে পাওয়া নগদ ৮ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এ ছাড়া ক্যাসিনোসংক্রান্ত ৭টি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।


আপনার মন্তব্য