শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০৩

বসন্তের আগমনী বার্তা

মোস্তফা মতিহার

বসন্তের আগমনী বার্তা

প্রকৃতিতে বইছে বসন্তের আগমনী হাওয়া। আর বসন্তের সেই দোলায় দুলছে স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। কোকিলের কুহুতানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠক আসছে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যানাগাদ পাঠকের সেই আগমন উৎসবে পরিণত করেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিনকে। দিন যতই যাচ্ছে বসন্তও ততই এগিয়ে আসছে। আর অব্যাহত রয়েছে পাঠকের উপস্থিতি। গতকাল মেলার দশম দিনে বেশ কয়েকজন প্রকাশক জানান, এবারের মেলা নিয়ে তারা হতাশ নন। অনন্যা, অন্বেষা, উৎস, অন্যপ্রকাশ,  তাম্রলিপি, পাঞ্জেরী, অবসর, কাকলী, ঐতিহ্য, কথাপ্রকাশসহ শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সামনে পাঠকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষণীয় ছিল। পাঠকের উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে বই কেনার সমীকরণেও ছিল অনেক মিল। অর্থাৎ গতকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলার দশম দিনে মেলাপ্রাঙ্গণে আগত প্রায় সবার হাতে হাতেই বই শোভা পেয়েছিল। অবসর প্রকাশনা সংস্থার ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, দিনে দিনে পাঠকের উপস্থিতি যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনভাবে বইয়ের বিক্রি বেড়েছে। তবে ভিন্ন কথাও শোনালেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। টাঙ্গনের স্বত্বাধিকারী অজয় কুমার রায় বলেন, ‘ভালো মানের বই প্রকাশ হলেও সেসব বই খুব কম বিক্রি হচ্ছে।’ হালকা ও চটুল টাইপের কিছু বইমেলার গুণগতমান নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ করেন এই প্রকাশক। মোটিভেশনাল বইগুলো পাঠকদের মাঝে হতাশার সৃষ্টি করছে বলেও মনে করেন অজয় কুমার রায়। তিনি বলেন, ‘যারা হতাশায় ভোগেন মোটিভেশনাল বইগুলো তাদের জন্য। এ ধরনের বই প্রকাশ করে প্রকাশকরা উপকৃত হলেও আলটিমেটলি পাঠকরা প্রতারিত হচ্ছে। মানসম্পন্ন বই প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নীতিমালা না থাকায় যে যার মতো বই প্রকাশ করছে।’ এ থেকে উত্তরণ দরকার বলেও মনে করেন বেশ কয়েকজন প্রকাশক। এবার বিক্রির শীর্ষে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ‘আমার দেখা নয়াচীন’। প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পর গতকাল বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ মেলায় এসেছে। আর দ্বিতীয় সংস্করণে আনা হয়েছে ২০ হাজার কপি। এ তথ্য জানিয়েছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব ড. জালাল আহমেদ।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, গতকাল মেলার দশম দিনে নতুন বই এসেছে ১৫২টি। এর মধ্যে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে শাহরিয়ারের ‘বেসিক আলী-১২’, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের ‘উপন্যাসত্রয়ী’, বদিউর রহমানের ‘ড্রিম গার্লস’। সাত ভাই চম্পা প্রকাশনী এনেছে খালেক বিন জয়েন উদ্দীনের ‘বঙ্গবন্ধু ও শেখ রাসেল’ প্রভৃতি।

আল মাহমুদের রাগিনী : প্রয়াত কবি আল মাহমুদের উপন্যাস রাগিনী। রোমান্টিক ঘরানার এ উপন্যাসে উঠে এসেছে প্রেম, প্রণয়, বিরহের এক মর্মন্তুদ আখ্যান। বইটি পাওয়া যাচ্ছে সরলরেখা প্রকাশনা সংস্থার ৬১৮ নং স্টলে।

মূলমঞ্চ : বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মোহাম্মদ আলী খান রচিত ‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাক বিভাগের সাবেক মহাপরিচালক আতাউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

প্রাবন্ধিক বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি বিধায় স্বভাবতই বাংলাদেশের ডাকটিকিট ও মুদ্রায় তাঁর প্রতিকৃতি প্রাধান্য পাওয়ারই কথা, সেটাই ঘটেছে। সভাপতির বক্তব্যে ফজলে কবির বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিসংবলিত ডাকটিকিট ও মুদ্রা নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশের এ উদ্যোগ অত্যন্ত শ্রমসাধ্য ও প্রশংসনীয়। ‘ডাকটিকিট ও মুদ্রায় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের লেখক মোহাম্মদ আলী খান প্রচুর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এই সচিত্র গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যা সকল শ্রেণির পাঠকের কাছেই সমাদর পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

সব শেষে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি সোহরাব পাশা, রহিমা আখতার কল্পনা, শিহাব শাহরিয়ার ও অনিকেত শামীম। আবৃত্তি করেন মাহফুজুর রহমান, অনন্যা লাবণী পুতুল ও শহিদুল ইসলাম নাজু। সংগীত পরিবেশন করেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, রথীন্দ্রনাথ রায়, শফি মন্ডল, সালমা চৌধুরী, মো. রেজাউল করিম ও শুভ্রা দেবনাথ। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমস্বর’।


আপনার মন্তব্য