শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:২২

তুলশীগঙ্গা যেন ময়লার ভাগাড়

ন দী র কা ন্না

নওগাঁ প্রতিনিধি

তুলশীগঙ্গা যেন ময়লার ভাগাড়
খরস্রোতা তুলশীগঙ্গা নদী কচুরিপানার ভাগাড় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

নওগাঁ শহরের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত তুলশীগঙ্গা নদী। নদীটি এখন যেন কচুরিপানা আর ময়লার ভাগাড়। নদী জুড়ে জমে আছে ময়লা আর কচুরিপানা। আর দখল-দূষণের কারণে পরিণত হয়েছে সরু খালে। নদী দখল করে যে যার মতো তৈরি করছেন বাড়িঘর ও কলকারখানা। যেন দেখার কেউ নেই। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা দিনাজপুরের শালখুড়িয়া ইউনিয়নের বিলাঞ্চল এলাকা থেকে নদীটির উৎপত্তি। ১৯৮৭ সালে নওগাঁ সদর উপজেলার ছিটকিতলা এলাকায় স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয় এবং ওই এলাকায় তুলশীগঙ্গা থেকে একটি খাল খনন করে তুলশীগঙ্গার প্রবাহ ছোট যমুনার সঙ্গে মিলিত করা হয়। মূলত সেই সময় থেকেই তুলশীগঙ্গা তার নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। গত প্রায় ৩১ বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে দুই-তিন মাস প্রবাহ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে এটি প্রায় পানি শূন্য থাকে। নদীর কোথাও কোথাও পানি শুকিয়ে শুষ্ক মাঠে পরিণত হয়। নদীর পাড় জুড়ে চলছে দখলদারিত্ব। নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্থাপিত চালকলের ছাই ফেলা, পৌরসভার পয়ঃবর্জ্য ও গৃহস্থালিসহ সব ধরনের বর্জ্যে বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে নদীটি। নওগাঁ পৌরসভার রজাকপুর এলাকায় তুলশীগঙ্গা সেতু দুই পাশে নদী জুড়ে যেন ময়লা ও কচুরিপানার ভাগাড়। সেতুর নিচে প্রচুর বর্জ্য ফেলা রয়েছে। নদীর বুক জুড়ে শুধুই কচুরিপানা। বেশ কয়েকটি চালকলের উৎপাদিত ছাই ফেলা হচ্ছে নদীতে। ফলে ছাইয়ের স্তূপ জমে রয়েছে নদীতে। পূর্বে পাশে নদীর ভাটির অংশে পাড় ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে চালকল, ইটভাটা, চাল-গমসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য ছাঁটাইয়ের কারখানা। সেগুলো থেকেও নদীতে প্রতিনিয়ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার ভবানীপুর, কাঁঠালতলি ও রজাকপুর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও কারখানার নর্দমার ময়লা-দুর্গন্ধ পানি এসে পড়ছে নদীতে। এক কথায় শহরবাসী বলছেন অভিভাবকহীন এই নদীটি।

তুলশীগঙ্গা তীরবর্তী নওগাঁ পৌরসভার কাঁঠালতলী এলাকার বাসিন্দা মীর মোশাররফ হোসেন জুয়েল ও রজাকপুর মেরিগোল্ড মহল্লার বাসিন্দা আসাদুর রহমান জয় বলেন, আগে তুলশীগঙ্গার পানি টল টল করত। এখন আর পানি থাকে না। নদীর নিচু জায়গাগুলোতে একটু করে পানি দেখা গেলেও সেগুলো ময়লা-আবর্জনার কারণে কালো দেখা যায়। পচা দুর্গন্ধ। সেই সঙ্গে নদীটি দখল আর দূষণের ফলে হারিয়ে ফেলেছে তার যৌবন। তাই নদীটি রক্ষার জন্য দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি তাদের। নওগাঁর সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি ও নওগাঁ নদী রক্ষা কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী বলেন, একুশে পরিষদ ছোট যমুনা ও তুলশীগঙ্গা নদীর দখল-দূষণ দূর করে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, মানববন্ধনসহ লিফলেট বিতরণ করে আসছে। তবে শুধু আন্দোলন করলে হবে না, প্রশাসন কিংবা সরকার যদি এই দাবিগুলো কর্ণপাত না করে তাহলে কার্যত কোনো লাভ হবে না। নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার বলেন, তুলশীগঙ্গা সেতু থেকে নদীর উজান অংশে নদী পুনঃখননের জন্য শিগগিরই একটি প্রকল্প নেওয়া হবে এবং তা বাস্তবায়ন করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর