শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ অক্টোবর, ২০২০ ২২:৫৮

হয়রানির আরেক নাম গায়েবি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনীয়া উপজেলার সরফভাটার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহমদ মিয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন পুত্রবধূ নাজেহাদ ফারজানা। মামলায় আসামি করা হয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের স্ত্রী শারীরিকভাবে হাঁটা-চলা করতে অক্ষম মঞ্জুরা বেগম, তার প্রবাসী সন্তান জালাল উদ্দিন এবং মেয়ে তারিন আকতারসহ পাঁচজনকে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন জনের দাবি, এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার সময়ে মঞ্জুরা ছিলেন ঢাকায়। আর জালাল উদ্দিন মধ্যপ্রাচ্যে এবং তারিন শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। অথচ মামলায় তারা সবাই সরফভাটায় ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ মামলা দায়েরের পর সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। শুধু মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আহমদ মিয়ার পরিবার নয়, এভাবে গায়েবি মামলার শিকার হয়ে নানামুখী হয়রানির শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রামের অসংখ্য মানুষ। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার কারণে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারার অপব্যবহারের মাধ্যমে মামলা করা হয়। চট্টগ্রামে অহরহ এ জাতীয় মিথ্যা নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা হচ্ছে। এসব মামলায় এক সময় আসামিরা খালাস পেলেও তার আগে নানা কাটখড় পুড়তে হয়। কিছু কিছু মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়েরের জন্য বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নজিরও রয়েছে চট্টগ্রামে। তবে আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।’ নারী নেত্রী অ্যাডভোকেট নুর জাহান খান বলেন, ‘দুষ্টচক্র নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারার অপ-ব্যবহার করছে এটা যেমন সত্য, আবার অনেকে নির্যাতনের শিকার হয়েও নানান প্রতিবন্ধকতার কারণে আইনের আশ্রয় পাচ্ছেন না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ হচ্ছে আইনের সঠিক প্রয়োগ ও সুষ্ঠু তদন্ত।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করতে চট্টগ্রাম আদালত ভবন ও বিভিন্ন থানায় রয়েছে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। তাদের কাজই হচ্ছে টাকার বিনিময়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট যোগাড় ও নির্যাতনের কল্পকাহিনী তৈরি করে মামলা করা। অনেক ক্ষেত্রে তারা আসামি গ্রেফতারের চুক্তিও নেন। দালালচক্র একেকটি মামলা দায়েরের জন্য ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে যৌতুক মামলা করা হচ্ছে। এ সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। রাঙ্গুনীয়া মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের পরিবারের মামলার বিষয়ে সরফভাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে যে মামলাটি হয়েছে তা ভিত্তিহীন। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এ ধরনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর