শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:২৬

প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনে

শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট

প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনে

প্রাণ ফিরেছে সুন্দরবনে। নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়া হরিণ। চোখে পড়ছে বাঁদরের বাঁদরামি। ইরাবতী ডলফিনসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন দলবেঁধে খেলা করছে। উদ্ভিদরাজি বেড়ে উঠছে তার স্বভাবিক নিয়মে। দেখা মিলছে কুমির ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বাটাগুল বাচকা কচ্ছপের। ঘুরে ফিরছে অজগর, কিংকোবরাসহ নানা প্রজাতির সাপ। বন মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙছে বন কর্মকর্তাদের। পাখিরা কিচির-মিচির শব্দ করে গাছের এডাল থেকে ওডালে উড়ে ফিরছে। নতুন প্রাণ পেয়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ছয়বার রূপ পাল্টানো সুন্দরবন কোনো উপদ্রব ছাড়াই নিজের মতো করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যের বৃহত্তম আধার। বাংলাদেশের অক্সিজেনের ভান্ডার সুন্দরবনে গত ২৬ মার্চ বন্যপ্রাণীর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পর্যটকসহ জেলে-বনজীবীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ‘রেড অ্যালার্ড’ জারি করে বন অধিদফতর। জোরদার করা হয় ‘স্মার্ট প্যাট্রলিং’। চোরা শিকারি ও বনজীবীদের সুন্দরবনে প্রবেশ ঠেকাতে রাতদিন পাহারা থাকায় ঢুকতে পারেনি অবাঞ্ছিত লোকজন। ১ নভেম্বর থেকে সীমিত আকারে ইকো ট্যুরিস্টদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, করোনাকালেও আমরা সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করেছি। আজকের এই সুন্দরবন প্রায় ১ লাখ বছর আগে হিমালয়ের দক্ষিণ পাশ ঘেঁষে গোড়াপত্তন হলেও মানুষের বসতি ও কৃষিজমির প্রয়োজনে সংকুচিত হতে হতে বঙ্গোপসাগর উপকূলে ঠেকেছে। অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরুতে সুন্দরবনের আয়তন ছিল দ্বিগুণ। কমতে কমতে বর্তমানে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন হচ্ছে ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। যা দেশের সংরক্ষিত বনভূমির ৫১ ভাগ। অস্তিত্ব সংকটে থাকা সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতির কাছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। করোনার কারণে সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ নৌ-প্রটোকলভুক্ত আন্টিহারা-মোংলা নৌপথ বন্ধ থাকা, মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমনের হার কমে যাওয়াসহ ২৪ ঘণ্টায় দুবার সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত লবণাক্ত এই বনভূমিতে পর্যটকসহ জেলে-বনজীবীর আধিক্য না থাকায় নেই কোনো কোলাহল। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, গত ২৬ মার্চ বন্যপ্রাণীর করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ‘রেড অ্যালার্ড’ জারি করা হয়। এর পর থেকে অবাঞ্ছিত লোকজনকে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সুন্দরবন স্বাভাবিক রূপ ফিরে পেয়েছে। নতুন প্রাণ পেয়েছে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে। ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক ও ৫ নভেম্বর থেকে জেলে-বনজীবীরা সীমিত আকারে বনে থাকায় বন্যপ্রাণী তার স্বাভাবিক নিয়মে চলাচল করতে পারছে। সবুজে ছেয়ে গেছে সুন্দরবন, যা আমাদের সবার কাম্য।

সুন্দরবন ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইডের পাশাপাশি বিশ্বের বৃহৎ জলাভূমিও। সুন্দরবনের জলভাগের পরিমাণ ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার। যা সমগ্র সুন্দরবনের ৩১ দশমিক ১৫ ভাগ। ১৯৯২ সালে সমগ্র সুন্দরবনের এই জলভাগকে রামসার এলাকা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর