শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৭

বাজেট ২০২১-২২

আবারও মেগা প্রকল্পে অগ্রাধিকার

২ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার মূল এডিপিতে বরাদ্দ থাকছে ৫০ হাজার কোটি টাকা

মানিক মুনতাসির

করোনা মহামারীর মধ্যেও উন্নয়ন কর্মকান্ড স্বাভাবিক রাখতে চায় সরকার। এ জন্য মেগা প্রকল্পসহ অন্যসব উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে কার্যকর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে কাজে গতি ফেরানো হয়েছে। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেলসহ মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে অবিরাম। এসব প্রকল্পের গতি স্বাভাবিক রাখতে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ থাকছে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৩ হাজার কোটি টাকা। আর আগামী বছরের বাজেটের মূল এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হতে পারে ২ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থবিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, পৃথিবীব্যাপী করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় সব দেশে চলছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়। একই কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিও থমকে আছে। তবে বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অবশ্য সরকারের আয় কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নও হচ্ছে ঢিমেতালে। বৃহৎ প্রকল্পগুলো ছাড়া অন্যসব প্রকল্পের কাজ চলছে মন্থরগতিতে। আবার করোনার কারণে সরকারের পরিচালন বা অনুন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে অনেক বেশি। ফলে আগামী বছরের বাজেটে এডিপির আকার কিছুটা কমিয়ে ধরা হচ্ছে। অবশ্য কমানো হচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির টার্গেটও। তবে আসছে বছর মেগা প্রকল্পসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের গতি যেন কোনোভাবেই না হ্রাস পায় সেদিকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। এ জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান নিশ্চিত করা হচ্ছে। অর্থের অভাবে যেন কোনো প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে না পড়ে সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। একইভাবে করোনার প্রভাবে গত বছরের মাঝামাঝিতে প্রকল্পের কাজে যে ধীরগতি ছিল তাতে অনেক প্রকল্পের কাজে বেশ ছেদ পড়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এখন অবিরাম কাজ চলছে। কারিগরি সহায়তাদানকারী, প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করছেন।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতি সামলাতে এবারের এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হবে। নয়টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে শীর্ষস্থানে থাকবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা। এদিকে প্রশাসনিক অদক্ষতা, করোনার প্রভাব, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদক্ষতা, গাফিলতি ও দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে চলতি বছর এডিপি বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না। অবশ্য এটাকে চিরাচরিত ব্যবস্থাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব কারণে প্রতি বছরই এডিপিতে কাটছাঁট করতে হচ্ছে। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট এডিপির ৩০ শতাংশই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৯-২০ পর্যন্ত প্রতিটি অর্থবছরেই সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯০ শতাংশের ওপরে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছিল ৯৪ দশমিক ০২ শতাংশ। এর প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের এডিপির বাস্তবায়নের হার আরও কমবে। সেই আশঙ্কা এখন থেকেই আমলে নিয়ে পরিকল্পনামাফিক কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। যেন কোনোভাবেই প্রকল্পের কাজে করোনার বাধা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে। করোনাকালের অচলবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক গতি ফিরছে অর্থনীতিতে। একইভাবে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজের গতি বাড়াতে নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। গত মার্র্চ থেকে জুলাই সময়ে এসব প্রকল্পের কাজ যতটুকু পিছিয়ে পড়েছে তা পুুষিয়ে নিতে পরিকল্পনাও করা হয়েছে। সে অনুযায়ী বড় উন্নয়ন প্রকল্পে যাতে অর্থের কোনো সংকট না হয় সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান ঠিক রাখতে এনবিআরের রাজস্ব আয় বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিফটিং পদ্ধতিতে অবিরাম ২৪ ঘণ্টাই কাজ চলছে মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শাহজালাল বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটসহ প্রায় সব বৃহৎ প্রকল্পে। এসব প্রকল্পের সামগ্রিক কাজের মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মীদের প্রকল্প এলাকার বাইরে যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ছুটিতে যাওয়া বিদেশি শ্রমিক, টেকনিশিয়ানসহ প্রকৌশলীদের প্রায় সবাই আবার কাজে ফিরে এসেছেন। এদিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন তৃতীয় টার্মিনালের কাজেও স্বাভাবিক গতি ফিরেছে। করোনা মহামারী লকডাউনকালে যেসব শ্রমিক ও টেকনিশিয়ান নিজ দেশে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন তাদের অধিকাংশই ফিরে এসে কাজে যোগ দিয়েছেন। ঢাকা মহানগরীর অভ্যন্তরীণ সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, প্রবেশ ও নির্গমন, মহাসড়কের যানজট নিরসন এবং ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পরিকল্পনা করেছে সরকার। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (এমআরটি), দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (বিআরটি), তিন স্তরবিশিষ্ট লিংক রোড, আটটি রেডিয়াল সড়ক, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে এবং ২১টি ট্রান্সপোর্টেশন হাব নির্মাণ। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ ও সুলভ করতে মেট্রোরেলের লাইন-৬ এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এদিকে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু। গত বছরের শেষদিকে এ সেতুর কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আশা করা হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এর কাজ শেষ হবে। ডুয়েলগেজ ডাবল-ট্র্যাকের এই সেতুটি হবে দেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু। এটি রাজধানীর সঙ্গে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর