শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৫

অষ্টম কলাম

বিক্ষোভ বাড়ছেই মিয়ানমারে

সেনা শাসন প্রত্যাখ্যান করে ৩০০ এমপির বিবৃতি

প্রতিদিন ডেস্ক

মিয়ানমারে সামরিক শাসনবিরোধী বিক্ষোভ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। গতকাল আরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন। এদিকে সামরিক শাসন প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমারের ৩০০ এমপি বিবৃতিও দিয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়া সামরিক সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মিয়ানমারের ৩০০ জন এমপি। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সামরিক সরকারকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে গণতন্ত্রের জন্য তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তারা।

রাশিয়ার স্পুটনিক নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারের প্রায় ৩০০ আইনপ্রণেতা নিজেদের জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করতে এক ভিডিও কনফারেন্সে মিলিত হন। গত শুক্রবার বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেন ওই সংসদ সদস্যরা। তারা জান্তা সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নিজ নিজ আসনে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। হাজারো বিক্ষোভকারী সড়কে : মিয়ানমারে সামরিক শাসনের প্রতিবাদ জানাতে দেশটির প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় নেমেছেন হাজারো মানুষ। গতকাল বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মিয়ানমারে সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশটির হাজারো মানুষ গণবিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছেন। তাদের অনেকেই বয়সে তরুণ। বিক্ষোভকারীরা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ছবি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। তারা লাল রঙের পোশাক পরেছেন। কারণ সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) পতাকার রং লাল। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ব্যানার বহন করতে দেখা গেছে। একটি ব্যানারে  লেখা ছিল ‘ভোটারদের সম্মান কর’। অনেক বিক্ষোভকারী প্রতিবাদী স্যালুটের প্রতীক হিসেবে তিন আঙুল প্রদর্শন করেন। বহন করেন লাল রঙের বেলুন। এই প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়ে গাড়ি ও বাস হর্ন বাজায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন, ‘গণতন্ত্র না আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা গণতন্ত্রের দাবি করেই যাব।’ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের বিভিন্ন সড়কে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ আপাতত এসব গণবিক্ষোভ থামাচ্ছে না। তবে বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে হয়তো তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। ইয়াঙ্গুন ছাড়াও মিয়ানমারের একাধিক শহরে গতকাল ছোটখাটো বিক্ষোভ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগের দিন শনিবার দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গুন ও রাজধানী  নেপিদোয় হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। তারা সবাই দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিসহ বন্দী রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান। একটি পর্যবেক্ষক সংগঠন জানিয়েছে, মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩০ জন আইনপ্রণেতা ও কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে আরও অনেককে।

এই বিভাগের আরও খবর