শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০২

করোনাকালে নির্বাচন স্থগিত

মেয়াদ শেষেও তিন মাস স্বপদে থাকছেন ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা

গোলাম রাব্বানী

তিন মাস বা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। করোনা মহামারীর কারণে পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বর্তমান পরিষদের সদস্যরা তিন মাস স্বপদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। মেয়াদ শেষ হওয়া সাপেক্ষ স্থানীয় সরকার বিভাগ এই বিষয়ে আদেশ জারি করবে। ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯-এর ২৯(৫) ধারায় বলা হয়েছে- দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারবে। করোনা মহামারীর কারণে ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে যথা সময়ে নির্বাচন না হওয়ায় অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদও শেষ হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা (মেম্বার) তিন মাস (৯০ দিন) স্বপদে থাকার সুযোগ পাবেন। গত ১২ এপ্রিল এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এক্ষেত্রে যখন যে ইউপির মেয়াদ শেষ হবে, তখন সরকার আদেশ জারির মাধ্যমে ওই পরিষদের সদস্যদের স্বপদে থাকার বিষয়ে নির্দেশনা দেবে। ইতিমধ্যে যে সব ইউপির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপির বর্তমান পরিষদকে মেয়াদ শেষেও দায়িত্বে পালনের বিষয়ে সরকার আদেশ জারি করেছে। তারা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্বপদে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশন আসন্ন ইউপি নির্বাচন স্থগিত করেছে। তাই পরিষদের নিয়মিত কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। এ জন্য পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান যে পরিষদ আছে, সেই পরিষদ কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে আমরা গত ১২ এপ্রিলে একটি আদেশ জারি করেছি।

অন্যদিকে করোনা মহামারীর কারণে নির্ধারিত সময়ে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে স্থানীয় সরকার বিভাগকে গত ৮ এপ্রিল জানিয়েছে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠিয়েছে ইসি। ওই চিঠির অনুলিপিও দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে। ইসির উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে- সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতির কারণে জনসমাগম কমানোর লক্ষ্যে ১১ এপ্রিলের প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচন, সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন এবং সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের ১১ নম্বর শূন্যপদে নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিশন। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯-এর ২৯(৫) ধারা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রাসংগিক অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে অবহিত করতে কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। কমিশনের উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হয় ওই চিঠিতে। এর আগে ১ এপ্রিল কমিশন সভায় করোনার কারণে সব নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে পরিষদের মেয়াদের বিষয়ে বলা হয়েছে- “কোন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, ...সংশ্লিষ্ট পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ হতে পাঁচ বছর সময়ের জন্য উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।” পরিষদের নির্বাচনের বিষয়ে বলা হয়েছে- “পরিষদ গঠনের জন্য কোন সাধারণ নির্বাচন ওই পরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী সাধারণ নির্বাচনের তারিখ হতে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।” আইনে উল্লেখ রয়েছে- “দৈব-দুর্বিপাকজনিত বা অন্যবিধ কোন কারণে নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত কিংবা অনধিক ৯০ দিন পর্যন্ত, যা আগে ঘটবে, সংশ্লিষ্ট পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ক্ষমতা দিতে পারে।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মোট ছয় ধাপে ৪ হাজার ২৭৯ ইউনিয়নে ভোট আয়োজন করে কমিশন। প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির ভোট হয় ২২ মার্চ। এর পর ৩১ মার্চ ৭১০টি ইউপি, ২৩ এপ্রিল ৭১১টি ইউপি, ৭ মে ৭২৮টি ইউপি, ২৮ মে ৭১৪টি ইউপি এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে ভোট হয়।