শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৬

১৭ দেশে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত

প্রতিদিন ডেস্ক

Google News

বিশ্বের অন্তত ১৭টি দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ধরন পাওয়া গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও) গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ভারতে করোনায় আক্রান্তের বিশ্ব রেকর্ড অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এভাবে মৃত্যুর জন্য তিনটি কারণও খুঁজে পেয়েছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স, দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। খবরে বলা হয়েছে, করোনার ভারতীয় ধরনটি ‘বি.১.১৬৭’ নামে পরিচিত। করোনার এ ধরনকে অতি সংক্রামক বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এ ধরন ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ভারতে প্রথম শনাক্ত ‘বি.১.১৬৭’ নামের করোনার ধরনটি বিশ্বের এক ডজনের বেশি দেশে পাওয়া গেছে। এমন দেশের সংখ্যা কমপক্ষে ১৭। জিনোম সিকোয়েন্সিং ডেটাবেইস গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটায় (জিআইএসএআইডি) গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ হাজার ২০০টির বেশি করোনার ‘বি.১.১৬৭’ ধরনের সিকোয়েন্স আপলোড করা হয়েছে। অধিকাংশ সিকোয়েন্সই ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুর থেকে আপলোড করা হয়েছে। অপর দেশগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, ইতালি ও কম্বোডিয়া।

খবরে উল্লেখ করা হচ্ছে, করোনাভাইরাস প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। পরিবর্তিত হয়ে নিজের নতুন নতুন ধরন তৈরি করে। ভারতে গত অক্টোবরে প্রথম ‘বি.১.১৬৭’ ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ভারতে এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। ভারতে প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণের গতি অনেক বেশি। ভারতে করোনার সংক্রমণের গতি বৃদ্ধির জন্য নতুন ধরনটি দায়ী হতে পারে।

ভারতের বর্তমান করোনা পরিস্থিতির জন্য তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এগুলো হলো- গণজমায়েত, অতি সংক্রামক করোনা ধরন ও টিকাদানের নিম্ন হার। ভারতে করোনার নতুন ধরনটির বৈশিষ্ট্য, সংক্রমণ ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ব্যাপক পরিসরে গবেষণার ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

ভারতে কিছু দিন ধরে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড হচ্ছে। মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ৩ লাখ ৬০ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। ভারতে আগে কখনো এক দিনে এত করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের কোনো দেশে এখন পর্যন্ত এক দিনে এত করোনা রোগী আগে কখনো শনাক্ত হয়নি। একই সময়ে ভারতে ৩ হাজারের বেশি ব্যক্তি করোনায় মারা গেছেন। ভারতে করোনা মহামারী শুরুর পর এই প্রথম দেশটিতে এক দিনে ৩ হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হলো।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতে করোনায় সংক্রমিত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯৭ হাজার ২৬৭ জন। ভারতে করোনায় মোট মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ১৮৭। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত ভারতে এক দিনে ৩ হাজার ৩০৬ জন করোনায় মারা গেছেন। দেশটিতে টানা সাত দিন ধরে ৩ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তার আগে ১৫ এপ্রিল থেকে দেশটিতে প্রতিদিন ২ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছিল। আর টানা এক সপ্তাহ ধরে ভারতে ২ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছিল। গতকাল দৈনিক মৃত্যু ৩ হাজার ছাড়াল।

ভারতে করোনার সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় দেশটি তার সা¤প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অক্সিজেন, ওষুধ, হাসপাতালে শয্যার সংকটসহ নানা সমস্যায় দেশটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। ভারতের করোনা সংকটে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সৌদি আরব, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল বিদেশি সহায়তা ভারতে পৌঁছানোও শুরু হয়েছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ২৯ লাখ ২৭ হাজার ৯১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মোট মারা গেছেন ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জন। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ভারত। ভারতের পর রয়েছে ব্রাজিল। স¤প্রতি সংক্রমণের দিক দিয়ে ব্রাজিলকে টপকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসে ভারত। ব্রাজিলে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩২৪ জন। ভারতে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মহারাষ্ট্রে। তারপর রয়েছে কেরালা, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু, দিল্লি, অন্ধ্র প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ। ছত্তিশগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও হরিয়ানার পরিস্থিতিও অবনতিশীল। করোনার এই খারাপ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতে ভ্রমণের ওপর। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশ ভারত থেকে ভ্রমণার্থীদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অস্ট্রেলিয়া ভারতের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখছে।

সুনামির মধ্যেই ভারতে শাহী স্নানে ২৫ হাজার মানুষ : করোনা সুনামির মধ্যেই ভারতে কুম্ভমেলার শাহী স্নানে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে। শাহী স্নানে ২৫ হাজার পুণ্যার্থী এবং অন্তত ১ হাজার ৩৫০ জন সাধু-সন্তের জমায়েত হয়েছে। মঙ্গলবার মেলা শেষ হওয়ার তিন দিন আগে এই শেষ শাহী স্নান অনুষ্ঠিত হয়। আর তাতে অংশ নিতেই ঢল নামে মানুষের। কিছু পুলিশ কর্মকর্তাও শাহী স্নানে অংশ নেন। তাদের দাবি, এটা প্রতীকী ছিল। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ প্রথম শাহী স্নানের সময় মেলায় ৩২ লাখ পুণ্যার্থীর ভিড় ছিল। ২৭ মার্চ দ্বিতীয় শাহী স্নানের সময়ও একই সংখ্যক ভিড় ছিল। তৃতীয় শাহী স্নানের সময় ১৪ এপ্রিল সেই ভিড় অর্ধেক হয়ে যায়।

এই বিভাগের আরও খবর