শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৭ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জুন, ২০২১ ২৩:১০

হারিয়ে গেছে ঢাকার ১০ খাল

সময়ের ব্যবধানে কিছু খাল সড়কে পরিণত, বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার ভোগান্তি

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

হারিয়ে গেছে ঢাকার ১০ খাল
ময়লা-আবর্জনা, দখলে করুণ পরিণতি যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী খালের -রোহেত রাজীব
Google News

ঢাকায় খালগুলোর হিসাব নেই কোনো সংস্থার কাছেই। সরকারি এক একটি সংস্থা এক এক রকম তথ্য দিচ্ছে। কেউ বলছে ৫১টি, কেউ বলছে ৪৬টি, কেউ বলছে ৩২টি খাল। ঢাকার অন্তত ১০টি খালের এখন অস্তিত্বই নেই। খালের ওপর তৈরি হয়েছে সড়ক। এ জন্য বৃষ্টি হলেই বাড়ছে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি। জানা যায়, বক্স কালভার্ট সড়কের কারণে ১০টি খালের এখন কোনো অস্তিত্ব নেই। শাহবাগ থেকে মগবাজার পর্যন্ত একটি খাল ছিল। ঢাকা ওয়াসার মানচিত্রে এর নাম পরীবাগ খাল। তবে সেখানে এখন খালের কোনো চিহ্ন নেই। সেখানে এখন সোনারগাঁও সড়ক। পরীবাগ খালের মতোই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ঢাকার ১০টি খাল। এর মধ্যে ধোলাইখাল, রায়েরবাজার খাল, আরামবাগ খাল, গোপীবাগ খাল, সেগুনবাগিচা খাল, গোবিন্দপুর খাল, কাঁঠালবাগান খাল, নারিন্দা খাল, ধানমন্ডি খালের কোনো অস্তিত্ব নেই।

জানা যায়, পান্থপথে সড়কের নিচে চাপা পড়ে আছে একটি বিশাল খাল ও জলাভূমি। যেখানে ধানমন্ডি খাল দিয়ে এই এলাকার পানি নিষ্কাশিত হয়ে পান্থপথ হয়ে বেগুনবাড়ী খালে পড়ত। প্রায় এক যুগ আগে শাহবাগ থেকে উৎপত্তি হয়ে বড় মগবাজার পর্যন্ত পরীবাগ খাল, কাঁটাসুর খাল হতে উৎপত্তি হয়ে সরাই জাফরাবাদ ও সুলতানগঞ্জ মৌজার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রায়ের বাজারের বেড়িবাঁধ পর্যন্ত রায়েরবাজার খাল, বিজয়নগর পানির ট্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত আরামবাগ খাল এবং গোপীবাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন দিয়ে আরামবাগ খাল পর্যন্ত গোপীবাগ খাল ছিল। সময়ের ব্যবধানে খালগুলো সড়কে পরিণত হয়েছে। রাজাবাজার খালটি রাজাবাজার পশ্চিম পাশ থেকে হোটেল সুন্দরবন পর্যন্ত ছিল। যা এখন বক্স কালভার্ট সড়ক। এ ছাড়া ধানমন্ডি খাল ও নন্দীপাড়া-ত্রিমোহনী খালে বক্স কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমান মৎস্য ভবন থেকে সেগুনবাগিচা মসজিদ হয়ে বিজয়নগর, পুরানা পল্টন দিয়ে আরামবাগ, নটরডেম কলেজের পেছন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছন দিয়ে দক্ষিণ কমলাপুর হয়ে গোপীবাগ পর্যন্ত দীর্ঘ একটি খাল ছিল যা বর্তমানে বক্স কালভার্ট তৈরি করে রাস্তা করা হয়েছে। জানা গেছে, ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথক প্রকল্প নিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। প্রাথমিকভাবে ৯৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি খাল উন্নয়নে একটি প্রকল্প নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ইতিমধ্যে প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। জানা যায়, ঢাকা শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১০০ বছরে ঢাকা টাউন প্ল্যান, ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ও ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)সহ একাধিক মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমন্বয়হীনতা ও গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এসব মহাপরিকল্পনা। এ বিষয়ে পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা টাউন প্ল্যানে বৃষ্টির পানি যেন প্রবাহিত হয়ে চলে যেতে পারে, সে জন্য নদী, খাল ও জলাধারগুলোকে সংস্কার ও সংরক্ষণ করার কথা ছিল। ওটা ঠিক ১০০ বছর আগের কথা। কিন্তু এখনো আমাদের এসব নিয়েই কথা বলতে হচ্ছে। পরে এটা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) বলা হয়েছিল কিন্তু তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ১৯৫৯ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ঢাকার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান করে। এটি ছিল ১৯৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি। পানি নিষ্কাশন ও বন্যার প্রসঙ্গটি এ পরিকল্পনায়ও গুরুত্ব পায়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত রাজউক ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) তৈরি করে। ১৯৯৭ সালে এটা পাস হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের মধ্যে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) পরামর্শগুলো ছিল। তাও বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে নতুন করে ২০১৫ সালে রাজউক আবার নতুন ঢাকা অবকাঠামোর পরিকল্পনা করেছে। সংশোধন করা হচ্ছে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)। এটার মধ্যেও তারা জলাধার করার কথা বলেছে কিন্তু ইতিমধ্যেই জলাধার, খাল হারিয়ে গেছে। তাই মহাপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।