সোমবার, ২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

দীর্ঘ অপেক্ষায়ও বাসে উঠতে পারছেন না যাত্রীরা

বাড়তি ভাড়া নিয়েও সব আসনে যাত্রী

শফিকুল ইসলাম সোহাগ

দীর্ঘ অপেক্ষায়ও বাসে উঠতে পারছেন না যাত্রীরা

গণপরিবহন সংকটে যাত্রীদের ভোগান্তি। ছবিটি রাজধানীর শাহবাগ থেকে গতকাল তোলা -রোহেত রাজীব

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও সংক্রমণ প্রতিরোধে বাসসহ সব গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি রেখে যাত্রী তোলার নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। ভাড়া বেড়েছে ৬০ শতাংশ। একই সঙ্গে অফিসে ৫০ শতাংশ উপস্থিতি ঠিকঠাক কার্যকর না হওয়ায় রাস্তায় বেরিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন অফিস যাত্রীরা। রাজধানীতে গণপরিবহন সংকটের কারণে সকাল বিকাল পিকআওয়ারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারছেন না যাত্রীরা। অন্যদিকে অধিকাংশ পরিবহনেই সব আসনে যাত্রী নিয়েও ভাড়া ৬০ শতাংশ বেশি নেওয়া হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী।

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান যানজট ও গণপরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাসের পর ফিটনেস না থাকা অনেক বেসরকারি গাড়ি রাস্তা থেকে উঠে গেছে। বর্তমানে নতুন রুট পারমিটও বন্ধ রয়েছে। বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক              পরিবহন সমিতি বলছে, অফিস টাইমে ভিড়ের সমস্যা আগেই ছিল। এ ছাড়া ঢাকায় গাড়ি চালানো তেমন লাভজনক না হওয়ায় কিছু কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে। নগরীতে গণপরিবহন সংকটের কারণে যানবাহন চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাবের দৌরাত্ম্যের শেষ নেই। অটোরিকশা চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। মিটারে এখন কেউ যেতে চায় না। চুক্তিভিত্তিক চলাচলেই তারা অভ্যস্ত। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। বর্তমানে রাজধানীতে লোকাল বাসের পাশাপাশি চলছে বিভিন্ন ধরনের ‘কাউন্টার সার্ভিস’। আর এই সার্ভিসের নামে একই রুটে একই দূরত্বে আদায় করা হচ্ছে একেক রকমের ভাড়া। অন্যদিকে সিটিং সার্ভিস লেখা থাকলেও বেশির ভাগ সার্ভিসে দাঁড় করিয়েও যাত্রী নেওয়া হয়। বাড়তি ভাড়া আদায়, একেক রকম ভাড়া আদায় এবং দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েও ফল হয় না। দুয়েকটি রুটে বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু হলেও সেবার মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা আফনানা বেগম জানান, মধ্যবাড্ডা থেকে অফিস শেষে যাত্রাবাড়ী যেতে হয়। অফিস শেষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাসে ওঠা যায় না। দেখা প্রায় প্রতিটি বাসের দরজা লক করা থাকে। একজন-দুজন যাত্রী নামলে মিছিলের মতো লোক ওঠার চেষ্টা করেন। তারাও দু-একজনের বেশি উঠান না। বাস পেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সন্ধ্যার পর রাজধানীর প্রায় প্রতিটি ফুটপাথে দেখা যায় বাসে উঠতে না পেরে মিছিলের মতো মানুষ হাঁটছে। করোনা সংক্রমণ রোধে আসনের অর্ধেক যাত্রী নিতে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এখন শত ভাগ যাত্রী উঠিয়ে ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে ৬০ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া যাত্রী, চালক ও সহকারী কেউই তোয়াক্কা করছেন না স্বাস্থ্যবিধি মানার। বাস চালকরা বলছেন, সকাল-বিকাল পিক আওয়ারে যাত্রীর চাপ থাকে অনেক বেশি। যাত্রীরা জোর করে বাসে উঠে পড়ে। একজন যাত্রী নামলে ১০ জন ওঠার চেষ্টা করে। আমরা নিষেধ করলেও যাত্রীরা মানতে চায় না। জোর করে বাসে উঠে পড়ে। যাত্রীরা বলছেন, সব আসনেই যাত্রী নিলে ভাড়া দ্বিগুণ দেব কেন? এদিকে মাস্ক ছাড়াই যাত্রী ওঠানামা হচ্ছে হরদম। এমনকি চালক, হেলপার কিংবা কন্ডাক্টরের মুখেও থাকছে না মাস্ক। থাকলেও দেখা যায়, তা ঝুলছে থুতনির নিচেই। আর জীবাণুনাশক ছিটানো সে তো কবেই বন্ধ হয়েছে। এ অবস্থায় বর্ধিত ভাড়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, মতিঝিল, শাহবাগ, ফার্মগেটসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গণপরিবহনে মানুষের ভিড়। আসন পূর্ণ করেই নেওয়া হচ্ছে যাত্রী। ভাড়াও নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ। যদিও বাসকর্মীদের দাবি, যাত্রীদের চাপের কারণেই পূর্ণ আসনে চলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। গেট বন্ধ করে দিলেও অনেকে জোর করে গাড়িতে ওঠেন। এ কারণে মানবিক দিক বিবেচনায় কিছু যাত্রী নিতে হয়। সবকিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলছে। এই নিয়মে যাত্রী এবং আমাদের সবারই ক্ষতি হচ্ছে। স্মার্ট উইনারের যাত্রী সেলিম জানান, আজিমপুর থেকে মহাখালী পর্যন্ত ভাড়া ছিল ৩০ টাকা। ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এখন নেওয়া হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। অথচ দুই সিটেই যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, যখন বাস ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল তখনো আমরা এর প্রতিবাদ করে বলেছিলাম, যেই ভাড়াটা বাড়ানো হয়েছে এটা বাস্তবায়ন করা কখনোই সম্ভব না। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা প্রত্যাহার করে যাত্রী হয়রানি বন্ধ হওয়া উচিত।